শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

তান্ত্রিক সন্ধ্যা

।।श्री।। 

 তান্ত্রিক সন্ধ্যা

দীক্ষিত মাত্রেরই তান্ত্রিক সন্ধ্যা করা আবশ্যক। দীক্ষিত ব্যক্তি যদি সন্ধ্যা উপাসনা না করে, তাহা হইলে তাহার দীক্ষাজনিত কোনরূপ ফললাভই হয় না। দীক্ষা তন্ত্রের অধীন। তন্ত্রের দুইটা ভাগ; যথা- (১) শক্তি-বিষয়ক, (২) বিষ্ণু-বিষয়ক। যাঁহারা শক্তিমন্ত্রে অর্থাৎ কালী দুর্গা প্রভৃতি মন্ত্রে দীক্ষিত হইয়া থাকেন এবং কালী দুর্গা প্রভৃতি দেবতার উপাসনা করেন, তাঁহারা শক্তি-বিষয়ে সন্নি-বেশিত তন্ত্রের প্রক্রিয়ানুসারে এবং যাঁহারা বিষ্ণুর উপাসক অর্থাৎ বিষ্ণু মন্ত্রে দীক্ষিত তাঁহারা, বৈষ্ণব তন্ত্রানুসারে উপাসনা করিবেন।


এই কলিযুগে বৈদিক কৰ্ম্ম সম্পাদন করা সকলের পক্ষে সম্ভবপর হয় না, বিশেষতঃ স্ত্রী শূদ্রাদির বেদে অধিকার নাই, তজ্জন্যই তান্ত্রিক কৰ্ম্ম সর্বত্র সবিশেষ আদরণীয় হইয়াছে। তন্ত্র সকলযুগেই ছিল, কলিযুগে বেদাদি বিহিত কার্য্য অতিশয় কষ্টসাধ্য, তজ্জন্যই সহজসাধ্য মুক্তি বা সিদ্ধি তন্ত্রে সন্নিবেশিত থাকায়, সমাজে তন্ত্রই অতিশর প্রসার লাভ করিয়াছে। তান্ত্রিক সন্ধ্যার সময় ও বৈদিক সন্ধ্যার সময় এক। যদি নিয়মিত সময়ে তান্ত্রিক সন্ধ্যা সম্পাদন করা না ঘটিয়া উঠে, তাহা হইলে সন্ধ্যা করিবার পূর্ব্বে দশ বার গায়ত্রী জপরূপ প্রায়শ্চিত্ত করিবার পরে সন্ধ্যা করিবে।

তান্ত্রিক সন্ধ্যা প্রাতঃকাল, মধ্যাহ্ন ও সায়ৎকাল এই তিন সময়ে একই রূপ। তবে এই তিন সন্ধ্যার প্রত্যেকের বিভিন্নপ্রকার ধ্যান আছে, তাহাই সামরিক সন্ধ্যোপাসনার সময় করিবে। গায়ত্রী ও মন্ত্রোপসনার সময় কারবে। গায়ত্রী ও মন্ত্রের জপ ১০৮ বার করিতে হয়, তাহা না করিলে জপজন্য কোন ফল হয় না। উচ্চৈঃস্বরে জপ করা উচিত নহে। গায়ত্রী ও মন্ত্র জপের ফললাভ করিতে হইলে মনে মনে জপ করা উচিত, কোনরূপ শব্দ করা উচিত নহে। দেবতা ভেদে তান্ত্রিক আচমনেরও পার্থক্য আছে। সে সকল অসম্ভব হইলে শাক্তগণ পূর্ব্বলিখিত আচমন প্রকরণের শাক্ত আচমন ও বৈষ্ণবগণ বৈষ্ণব আচমন করিবেন, এইরূপ করিলেও আচমন সিদ্ধ হয়। 

হাত পা ধৌত করিয়া পূর্ব্ব বা উত্তর মুখে উপবেশন পূর্ব্বক গায়ত্রী পড়িবার পর শিখা বাঁধিয়া (যদি শিখা না থাকে, তাহা হইলে শিখাস্থান স্পর্শ করিয়া) আচমন করিবে।


আচমন

* (শক্তিমন্ত্রে)-(নমঃ) আত্মতত্ত্বায় নমঃ এই যন্ত্র বলিয়া ওষ্ঠে একটু জল ছিটাইবে। 

(নমঃ) বিদ্যাতত্ত্বায় নমঃ বলিয়া ওষ্ঠে একটু জল ছিটাইবে। 

(নমঃ) শবতত্ত্বায় নমঃ বলিয়া ওষ্ঠে একটু জল ছিটাইবে। 

অন্যমন্ত্রে-মন্ত্র না বলিরা ওষ্ঠে তিনবার একটু করিয়া জল ছিটাইবে। দ্বিজাতিগণ প্রথমের (নমঃ) স্থলে ওঁ বলিবেন ও শেষের নমঃ স্থলে স্বাহা বলিবেন এবং প্রত্যেক মন্ত্রে জল পান করিবেন।

জলশুদ্ধি

• অঙ্কুশমুদ্রা দ্বারা (মধ্যমা অঙ্গুলির অগ্রভাগ, নখ না ঠেকে) জল স্পর্শ করিয়া নিম্নলিখিত মন্ত্র বলিবে:-
 (নমঃ) গঙ্গে চ যমুনে চৈব, গোদাবরি সরস্বতি।
নর্মদে সিন্ধুকাবেরি, জলেহস্মিন্ সন্নিধিং কুরু ॥
অনন্তর বীজমন্ত্র অর্থাৎ স্বীয় ইষ্ট দেবতার মন্ত্র বলিতে বলিতে সেই জল তিনবার মাটিতে ছিটাইবে ও সাতবার নিজের মস্তকে ছিটাইবে।

অঙ্গন্যাস

অনন্তর তত্ত্বমুদ্রা দ্বারা হৃদয় স্পর্শ করিয়া 'আং হৃদয়ায় নমঃ' এই মন্ত্র বলিবে। মস্তক স্পর্শ করিয়া 'ঈৎ শিরসে নমঃ' (স্বাহা) এই মন্ত্র বলিবে। শিখা স্পর্শ করিয়া 'উং শিখায়ৈ নমঃ' (বষট্) এই মন্ত্র বলিবে। দুই হাতে অর্থাৎ বাঁ হাত নীচে ও ডান হাত উপরে রাখিয়া ও আপনাকে জড়াইয়া ধরিয়া 'ঐং কবচায় নমঃ' (হুং) এই মন্ত্র বলিবে। বাঁ হাত চিৎ করিয়া ও তাহার উপর ডান হাতটিও চিৎ করিয়া রাখিয়া ডান হাতের তর্জনী দ্বারা দক্ষিণ চক্ষু, মধ্যমা দ্বারা কপাল ও অনামিকা দ্বারা বামচক্ষু স্পর্শ করিয়া 'ঔৎ নেত্রত্রয়ায় নমঃ (বৌষট্)' এই মন্ত্র বলিবে। 'অঃ অস্ত্রায় ফট্' এই মন্ত্র বলিয়া দুইটা হস্তই ঘুরাইয়া দক্ষিণ হস্তের মধ্যমা ও তর্জনী দ্বারা বাম হস্তের তলদেশে আঘাত করিবে। দ্বিজাতি-গণ নমঃ স্থলে (স্বাহা) ইত্যাদি বলিবেন।


অঘমর্ষণ

অঘ অর্থাৎ পাপ, মর্ষণ অর্থাৎ মোচন, অঘমর্ষণ অর্থাৎ পাপ ধুইয়া ফেলা। অনন্তর বীজমন্ত্রে ইষ্টদেবতার অঙ্গন্যাস ও করন্যাস করিয়া নিজের বাম হস্তে একটু জল রাখিয়া, তাহার উপর দক্ষিণ হস্ত চাপা দিয়া 'হং যং বং লং রং' এই মন্ত্র তিনবার জপ করিবে। বাম হস্তের অঙ্গুলির ফাঁক দিয়া ফোঁটা ফোঁটা জল ফেলিতে থাকিবে এবং তত্ত্বমুদ্রাদ্বারা সেইজল দক্ষিণ হস্তে গ্রহণ করিয়া বীজমন্ত্র পাঠপূর্ব্বক সাতবার মস্তকে ছিটাইবে। বামহস্তস্থিত অবশিষ্ট জল দক্ষিণ হস্তে লইয়া নাসিকার নিকট ধরিয়া মনে মনে চিন্তা করিবে যে, ঐ জল বাম নাসিকা দ্বারা দেহের মধ্যে প্রবেশ করিয়া আমার দেহস্থ সমস্ত পাপ ধুইয়া কৃষ্ণবর্ণ হইয়া
দক্ষিণ নাসিকা দিয়া বাহির হইয়া শ্বাসের সহিত ঐ জলে মিশিল। অনন্তর নিজের সম্মুখে একখানা প্রস্তর আছে এই মনে করিয়া ঐ জল করিত প্রস্তর খণ্ডের উপর 'ফট্' বলিয়া (একবার বা তিনবার) নিক্ষেপ করিবে। অনন্তর পুনরায় হস্তপ্রক্ষালনাদি করিয়া পূর্ব্ববৎ আচমন করিবে।

তর্পণ

তর্পণ স্নানেরই এক অঙ্গ; কিন্তু মহানির্ব্বাণ তন্ত্রের মতে অনেকে ইহা সন্ধ্যাতেও করিয়া থাকেন। যাঁহারা ইহা করিতে ইচ্ছা করেন, তাঁহারা কেবল মধ্যাহ্ন সন্ধ্যায় ইহা করিবেন। তর্পণ প্রাতঃসন্ধ্যায় করিবার আবশ্যক নাই ও স্ত্রীলোকদিগকেও ইহা করিতে হয় না। তর্পণ করিবার সময় নিম্নলিখিত এক একটা মন্ত্র বলিয়া বামহস্তে তত্ত্বমুদ্রার উপর প্রত্যেকবার জল দিবেঃ-
(নমঃ) দেবান্ তর্পয়ামি। (নমঃ) ঋষীন্ তর্পয়ামি। (নমঃ) পিতৃন্ তর্পয়ামি। (নমঃ) গুরুন্ তর্পয়ামি। (নমঃ) পরম গুরুন্ তর্পয়ামি। (নমঃ) পরাপর গুরুন্ তর্পয়ামি (নমঃ) পরমেষ্টি গুরূন তর্পয়ামি। 
অনন্তর শক্তিমন্ত্রে-
(নমঃ) হ্রীং অমুকদেবতাৎ তর্পয়ামি নমঃ (স্বাহা) এই মন্ত্র বলিয়া তিনবার জল দিবে। অন্য মন্ত্রে- (নমঃ) অমুকদেবতাৎ তর্পয়ামি (৩বার)। 
বৈষ্ণবের পক্ষে-
নমঃ নারদৎ তর্পয়ামি (৩বার)। নমঃ পর্ব্বতং তর্পয়ামি (বার)। নমঃ জিষ্ণুৎ তর্পয়ামি (৩বার)। নমঃ নিশঠৎ তর্পয়ামি (৩বার)। নমঃ উদ্ধবং তর্পয়ামি (৩বার)। নমঃ দারুকং তর্পরামি (৩বার)। নমঃ বিক্সেনং তর্পয়ামি (৩বার)। নমঃ শৈনেয়ৎ তর্পয়ামি (৩বার)। নমঃ গুরুং তর্পয়ামি (৩বার)। নমঃ (মূলমন্ত্র) অমুকদেবতাৎ তর্পয়ামি নমঃ (৩বার)। 
সম্পূর্ণ তর্পণে অক্ষম হইলে নিজ নিজ ইষ্টদেবতার তর্পণ  করিলেও চলিতে পারে।

সূর্য্যার্ঘ

ইদমর্য্যং (নমঃ) শ্রীসূৰ্য্যায় নমঃ এই মন্ত্র বলিয়া সূর্য্যোদ্দেশে অর্থ বা সামান্স একটু জল দিবে। (দ্বিজাতিগণ  'হ্রীং হংসঃ ইদমর্য্যৎ ওঁ সূর্য্যায় স্বাহা' বলিবেন)। 
অনন্তর তিনবার গায়ত্রী জপ করিয়া নিজ নিজ ইষ্টদেবতার উদ্দেশে তিনবার জল দিবে।
• দ্বিজাতিরা সকল স্থানেই প্রথমে নমঃ না বলিয়া ওঁ বলিবেন। 

গায়ত্রী ধ্যান

প্রাতঃসন্ধ্যায়।
ওঁ উদ্যদাদিত্যসঙ্কাশাং পুস্তকাক্ষকরাং স্মরেৎ।
কৃষ্ণাজিনধরাং ব্রাহ্মীৎ ধ্যায়েত্তারকিতেহম্বরে ।।১
মধ্যাহ্নসন্ধ্যায় ধ্যান।
ওঁ শ্যামবর্ণাং চতুর্ব্বাহুং শঙ্খচক্রলসংকরাম্।
গদাপদ্মধরাং দেবীং সূর্য্যাসনক্বতাশ্রয়াম্ ॥২
সায়ৎসন্ধ্যায় ধ্যান
ওঁ সায়াহ্নে বরদাং দেবীং গায়াত্রীং সংস্মরেদ যতিঃ।
শুক্লাং শুক্লাম্বরধরাং বৃষাসনক্বতাশ্রয়াম্।
ত্রিনেত্রাং বরদাং পাশং, শূলঞ্চ নূকরোটিকাম্।
বিভ্রতীৎ করপদ্মৈশ্চ বৃদ্ধাৎ গলিতযৌবনাং।
সূর্য্যমণ্ডলমধ্যস্থাৎ ধ্যায়ন দেবীং সমভ্যসেং ।।৩
ত্রিপুরা বিদ্যার ধ্যানে কিছু পার্থক্য আছে। তাহা দীক্ষা গুরুর নিকটে জানিয়া লইবে।

প্রাণায়াম

প্রথমে দক্ষিণ অঙ্গুষ্ঠ দিয়া দক্ষিণ নাসিকা টিপিয়া বামহস্তে বীজমন্ত্র ৪বার জপ করিবে। দক্ষিণ নাসিকা সেই প্রকার টিপিয়া রাখিয়াই অনামিকা ও কনিষ্ঠা দ্বারা বাম নাসিকাও টিপিয়া ধরিয়া ১৬বার বীজমন্ত্র জপ করিবে। অনন্তর দক্ষিণ নাসিকা ছাড়িয়া দিয়া ৮বার বীজমন্ত্র জপ করিবে।


ঋষ্যাদিন্যাস

তত্ত্বমুদ্রা দ্বারা নিজ মস্তক স্পর্শ করিয়া (নমঃ) অমুকঋষয়ে নমঃ বলিবে। মুখ স্পর্শ করিয়া (নমঃ) অমুকচ্ছন্দসে নমঃ বলিবে। হৃদয় স্পর্শ করিয়া (নমঃ) অমুকদেবতায়ৈ নমঃ বলিবে। যেখানে অমুক দেওয়া আছে সেই স্থানে অমুকের  পরিবর্তে মন্ত্রের যে ঋষি, যে ছন্দঃ ও যে দেবতা, তাহার নাম উচ্চারণ করিবে।
দ্বিজাতিগণ প্রথমের (নমঃ) স্থলে ওঁ বলিবেন।

ঋষ্যাদি

গণেশের-    গণকঋয়ে, নিচ্‌দ্‌ গায়ত্রীচ্ছন্দসে, গণেশদেবতারৈ।
শিবের-    বামদেবঋষয়ে, পঙক্তিচ্ছন্দসে, ঈশানদেবতায়ৈ।
দুর্গার-    নারদঋষয়ে, গায়ত্রীচ্ছন্দসে, দুর্গাদেবতায়ৈ।
জগদ্ধাত্রীর-     দুর্গার ন্যায়।
কালীর-    ভৈরবঋষয়ে, উষ্ণিন্দসে, দক্ষিণাকালিকা-দেবতায়ৈ।
বিষ্ণুর-    সাধ্যনারায়ণ-ঋষয়ে, দৈবীগায়ত্রীচ্ছন্দসে, বিষ্ণুদেবতায়ৈ।
কৃষ্ণের-    নারদঋষয়ে, বিরাড়, গায়ত্রীচ্ছন্দসে, শ্রীকৃষ্ণদেবতায়ৈ।
রামের-    ব্রহ্মঋষয়ে, গায়ত্রীচ্ছন্দসে শ্রীরামদেবতায়ৈ।
সূর্য্যের-    দেবভাগঋয়ে, গায়ত্রীচ্ছন্দসে, আদিত্যদেবতায়ৈ।
অন্নপূর্ণার-    ব্রহ্মঋষয়ে, পঙ্ক্তিচ্ছন্দসে, অন্নপূর্ণাদেবতারৈ।

জ্ঞাতব্য।-মুনি-ঋষিরা বহুকাল গবেষণা করিয়া যেমন দ্রব্যের গুণ স্থির করিয়াছেন, সেইরূপ তাঁহারা শব্দসমূহের পর্যালোচনা করিয়া দেবতাদিগের বীজ মন্ত্রের শুভফল নির্ণয় করিয়া গিয়াছেন। এই বীজ মন্ত্র ঐকান্তিকভাবে জপ করিলে শুভফল অনিবার্য্য, নিম্নে বরদাতন্ত্রে ষষ্ঠপটলে যাহা নির্দেশ আছে, তাহার  যথাযথ অর্থ দেওয়া হইল।

করন্যাস

আং অনুষ্ঠাভ্যাং নমঃ এই মন্ত্র বলিয়া দুই হাতেবই তর্জনী দিয়া অঙ্গুষ্ঠ স্পর্শ করিবে। ঈং তর্জনীভ্যাং নমঃ এই মন্ত্র বলিয়া অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা তর্জনী স্পর্শ করিবে। উং মধ্যমাভ্যাং নমঃ । এই মন্ত্র বলিয়া অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা মধ্যমা স্পর্শ করিবে। এং অনামিকাভ্যাং নমঃ। এই মন্ত্র বলিয়া অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা অনামিকা স্পর্শ করিবে। ঔং কনিষ্ঠাভ্যাং নমঃ § 'এই মন্ত্র বলিয়া অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা কনিষ্ঠা স্পর্শ করিবে। অঃ অস্ত্রায় ফট্ এই মন্ত্র বলিয়া দুই হাত ঘুরাইয়া দক্ষিণ হস্তের তর্জনী ও মধ্যমা দিয়া বাম হস্তের করতলে আঘাত করিবে।

অঙ্গন্যাস
ওঁ হৃদয়ায় নমঃ, (বলিয়া দক্ষিণ হস্তের তর্জনী, মধ্যমা ও অনামিকা দ্বারা হৃদয় স্পর্শ করিবে)। ভূ শিরসে স্বাহা, (বলিয়া তর্জনী ও মধ্যমা দ্বারা মস্তক স্পর্শ করিবে)। ভূ শিখায়ৈ বষট্, (বলিয়া অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা শিখা স্পর্শ করিবে)। বঃ কবচায় হুঁ, (বলিয়া বাম হস্তের উপর দক্ষিণ হস্ত রাখিয়া দুই হস্তে আপনাকে জাপুটাইয়া ধরিবে)। স্বঃ অস্ত্রায় ফট্, (বলিয়া দক্ষিণ হস্ত মস্তকের চতুদ্দিকে ঘুরাইয়া দক্ষিণ তর্জনী ও মধ্যমা দ্বারা বাম করতলে আঘাত করিবে)। অঙ্গন্যাস তিনবার করা আবশ্যক। অতঃপর গায়ত্রীর ধ্যান করিবে। বাম হস্তের তল-দেশে একটি ত্রিকোণ মণ্ডল আঁকিয়া কুৰ্ম্মমুদ্রা দ্বারা নিম্নলিখিত মন্ত্র বলিতে বলিতে
ধ্যান করিবে।

ইষ্টমন্ত্র জপ

মনে মনে ইষ্ট-দেবদেবীর মূর্তি ভাবিয়া গুরু, দেবতা ও মন্ত্র এই তিনটাকেই একরূপ মনে করিয়া ১৮বার, ১০৮ বার অথবা ১০০৮ বার (সাধ্যানুসারে) যথানিয়মে ইষ্টমন্ত্র জপ করিবে।

তান্ত্রিক গায়ত্রী

[ তন্ত্রসারে কথিত আছে শূদ্র ও স্ত্রী গায়ত্রী জপের পূর্ব্বে ঔ বলিয়া জপ করিবে। যথা-চতুর্দ্দশঃ স্বরো নাদ-বিন্দুভূষিতমস্তকঃ। শূদ্রস্থ্য প্রণবো দেবি কথিতস্তন্ত্রবেদিভিঃ] ॥

দক্ষিণাকালিকার-কালিকায়ৈ বিদ্মহে শ্মশানবাসিন্যৈ ধীমহি। তন্নো ঘোরে প্রচোদয়াৎ ॥
(শ্মশব্দেন শবঃ প্রোক্তঃ শানং শয়নমুচ্যতে।
নির্বচন্তি শ্মশানার্থং মুনে শব্দার্থকোবিদাঃ ॥
মহাস্থ্যপি চ ভূতানি প্রলয়ে সমুপস্থিতে।
শেরতেহত্র শবা ভূত্বা শ্মশানন্ত ততো ভবেৎ । স্কন্দপুরাণ)।
দুর্গার-    নারায়ণ্যৈ বিদ্মহে, দুর্গায়ৈ ধীমহি। তন্নো গৌরী প্রচোদয়াৎ ॥
জগদ্ধাত্রীর-    মহাদেব্যৈ বিদ্মহে, দুর্গায়ৈ ধীমহি। তন্নো দেবী প্রচোদয়াৎ ॥
সরস্বতীর-    বাগদেব্যৈ বিদ্মহে, কামরাজায় ধীমহি। তন্নো দেবী প্রচোদয়াৎ ॥
তারার-    তারায়ৈ বিদ্মহে, মহোগ্রায়ৈ ধীমহি। তন্নো দেবী প্রচোদয়াৎ ॥
অন্নপূর্ণার-    ভগবত্যৈ বিদ্মহে, মাহেশ্বর্য্যে ধীমহি। তন্নোহন্নপূর্ণে প্রচোদয়াৎ ॥
গণেশের-    তৎপুরুষায় বিদ্মহে, বক্রতুণ্ডায় ধীমহি। তন্নো দন্তী প্রচোদয়াৎ ॥
শিবের-    তৎপুরুষায় বিদ্মহে, মহাদেবায় ধীমহি। তন্নো রুদ্রঃ প্রচোদয়াৎ।।
কৃষ্ণের বিষ্ণুর-    ত্রৈলোক্যমোহনায় বিদ্মহে, কামদেবার ধীমহি। তন্নো বিষ্ণুঃ প্রচোদয়াৎ ॥
গোপালের-    কৃষ্ণায় বিদ্মহে, দামোদরায় ধীমহি। তন্নো বিষ্ণুঃ প্রচোদয়াৎ।
রামের-    দাশরথায় বিদ্মহে, সীতাবল্লভার ধীমহি। তন্নো রামঃ প্রচোদয়াৎ।।
সূর্য্যের-    আদিত্যায় বিদ্মহে, মার্তণ্ডায় ধীমহি। তন্নঃ সূর্য্যঃ প্রচোদয়াৎ ।

জপ সমর্পণ

গণ্ডুষে বা কুশীতে জল লইয়া নিম্নলিখিত মন্ত্র বলিবে:-
(নমঃ) গুহ্যাতিগুহ্যগোত্রী ত্বং গৃহাণাস্মৎ কৃতং জপম্।
সিদ্ধির্ভবতু মে দেবি, ত্বৎপ্রসাদাৎ সুরেশ্বরি ॥৪ +

* দ্বিজাতিরা নমঃ স্থলে স্বাহা, নমঃ স্থলে বষট্ নমঃ স্থলে হুং, § নমঃ স্থলে বৌষট্ বলিবেন।
† পুরুষ দেবতা হইলে 'গোপ্‌ত্রী' স্থলে 'গোপ্তা', 'দেবি' স্থলে 'দেব' এবং সুরেশ্বরি' স্থলে 'সুরেশ্বর' বলিবে।

উপরোক্ত মন্ত্র বলিয়া ঐ জল দেবতার বাম হস্ত উদ্দেশে (পুরুষ দেবতা হইলে দক্ষিণ হস্ত উদ্দেশে এবং অনেক হস্ত হইলে নিম্নহস্ত উদ্দেশে) ভূমিতে নিক্ষেপ করিবে, অনন্তর পুনরায় পূর্বের ন্যায় প্রাণায়াম করিয়া ইষ্টদেবদেবীকে ও গুরুকে প্রণাম করিবে। 

যদি কেহ সম্পূর্ণ সন্ধ্যা করিতে অক্ষম হয়, তাহা হইলে ইষ্টদেবদেবীকে মনে মনে ধ্যান করিয়া ইষ্টমন্ত্র অন্ততঃ পক্ষে দশবার জপ করিবে। 

দ্রষ্টব্য।-শূদ্র ও স্ত্রী অঙ্গন্যাস করিবার সময় "স্বাহা” বলিবে না, "নমঃ” বলিবে, "ওঁ” উচ্চারণ করিবে না। তর্পণ করিবার সময় নমঃ বলিবে। তান্ত্রিক সন্ধ্যা ব্রাহ্মণ, দ্বিজ, স্ত্রী, শূদ্র প্রভৃতি সকলেরই একরূপ, কেবল ওঁ ইত্যাদির উচ্চারণে কিছু প্রভেদ আছে; তাহাও 'লিখিত হইল।

জপের নিয়ম 

জপ তিন প্রকার-বাচিক, উপাংক ও মানস। বাচিক অপেক্ষা উপাংশু এবং উপাংশু অপেক্ষা মানস জপ শ্রেষ্ঠ। অপরে শুনিতে পায় এরূপ জপকে বাচিক; কেবল নিজে শুনিতে পাওয়া যায় এরূপ জপকে উপাংশু এবং জিহ্বা ও ওঠ চালনা না করিয়া মনে মনে জপকে মানস জপ বলে। বাচিক জপও উচ্চৈঃস্বরে করা নিষিদ্ধ। সংখ্যা না রাখিয়া জপ করিলে জপের ফল হয় না। পুরুষ দেবতার মন্ত্র জপের নিয়ম ওপরে দ্রষ্টব্য। স্ত্রী দেবতার মন্ত্র জপের নিয়ম। -দক্ষিণ হস্তের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠের অগ্র পর্ব্ব দ্বারা যথাক্রমে অনামিকার মধ্য ও মূল পর্ব্ব; কনিষ্ঠার মূল, মধ্য ও অগ্র পর্ব্ব; অনামিকার অগ্র পর্ব্ব, মধ্যমার অগ্র, মধ্য ও মূল পর্ব্ব এবং তর্জনীর মূল পর্ব্ব ধরিয়া জপ করিলে ১০ বার জপ হইবে। এক একটা পর্ব্ব ধরিয়া এক একবার জপ করিবে। প্রত্যেক অঙ্গুলির পর্ব্ব অর্থাৎ পাব ধরিবে। গ্রন্থি অর্থাৎ গাঁইট ও অগ্রভাগ ধরিবে না। জপের সময় অঙ্গুলি সমুহ সংযুক্ত থাকিবে, ফাঁক করিয়া রাখিবে না। প্রাতঃ- কালে হৃদয়ের নিকট চিৎ হাতে, মধ্যাহ্নে কাইৎ (হৃদয়াভিমুখ) হাতে এবং সায়ংকালে উপুড় হাতে বৈদিক মন্ত্র জপ কর্তব্য। অন্যান্য জপ সর্ব্বদা কাইৎ হাতে করিবে। জপকালে হস্তদ্বয় বস্ত্রাভ্যন্তরে রাখিবে। দ্বিজাতিগণ অঙ্গুষ্ঠে পৈতা জড়াইয়া লইবেন। দশবারের ন্যূন জপে কোন ফল হয় না। জপকালে কথা বলিবে না। ধীরে ধীরে সুস্পষ্ট মন্ত্র উচ্চারণ করিয়া জপ করিবে। অপরে যেন শুনিতে না পায় এইরূপে জপ করা কর্তব্য।

বীজমন্ত্রের অর্থ

শ্রীশিব উবাচ। মন্ত্রার্থং কথয়াম্যদ্য শৃণুষ পরমেশ্বরি। বিনা যেন ন সিধ্যেৎ সাধনৈঃ কোটিশঃ শিবে। আদৌ প্রাসাদবীজস্য মন্ত্রার্থৎ শৃণু পাৰ্ব্বতি ॥

হৌং-হ-শিব। ঔ-সদাশিব। ং-ক্লেশনিবারণ। সদা হিতকারী শিব আমার ক্লেশনিবারণ করুন।

স্ত্রী-হ-শিব। রূ-প্রকৃতি। ঈ-মহামায়া। জগন্মাতা। ক্লেশ- নিবারণ। শিবের শক্তি মহামায়া জগন্মাতা আমার ক্লেশ নিবারণ করুন।

হ্-হ-শিব। উ-ভৈরব। পরম। ক্লেশনিবারণ। শিব যাঁহার ভৈরব, সেই পরমেশ্বরী আমার ক্লেশনিবারণ করুন।

ক্রী-ক্-কালী। র্-ব্রহ্ম। ঈ-মহামায়া। বিশ্বমাতা।  ক্লেশনিবারণ। মহামায়া বিশ্বজননী কালী আমার ক্লেশ নিবারণ করুন।
*=
শ্রী-শ-মহালক্ষ্মী। র্ধন। ঈ-তুষ্টি। পরম। ক্লেশনিবারণ। পরমেশ্বরী মহালক্ষ্মী আমাকে ধন সম্পৎ ও সন্তোষ দিয়া আমার ক্লেশ নিবারণ করুন। 

স্ত্রী-স্-দুর্গোত্তারিণী।  ত-তারা। র-মুক্তি। ঈ-মহামায়া। - জগজ্জননী। -দুঃখহরণ। জগজ্জননী মহামায়া মুক্তিদাত্রী দুর্গতিহারিণী তারা আমার দুঃখ দূর করুন। 

দু-দ্‌-দুর্গা। উ-রক্ষা। জগজ্জননী। - করুন। হে বিশ্বমাতঃ দুর্গে, আমাকে রক্ষা করুন। 

এং-ঐ-সরস্বতী। ং-দুঃখহরণ। দেবী সরস্বতী, আমার দুঃখ দূর করুন। 

গং-গ-গণেশ। ৎ-দুঃখহরণ। সর্ব্বসিদ্ধিদাতা গণেশ আমার দুঃখ দূর করুন।

ক্লীং-ক্ - কৃষ্ণ বা কামদেব। ল্ সুরপতি ইন্দ্র বা ঐশ্বর্য্যশালী। ঈ- তুষ্টি। ৎ-সুখপ্রদ ও দুঃখহরণ। সর্ব্বশক্তিমান্ কৃষ্ণ বা কামদেব আমাকে সন্তুষ্ট আর সুখী করিয়া আমার দুঃখনাশ করুন। 
:-মন্ত্রে দুইটা বিন্দু থাকিলে, একটা বিন্দুর অর্থ দুঃখনাশন ও অন্যটার অর্থ সুখ ও সুখপ্রদ। 


বীজমন্ত্রের সংজ্ঞা

শক্তি-হ্রীং। অস্ত্র-ফট্। পৃথ্বী-লং। বরুণ-বং। অঙ্কুশ-ক্রোং। বায়ু  -যং। কবচ-হং। লজ্জা-হ্রীং। শাপহ-হ্রীং। পাশ-আং। ইন্দ্র-লং। প্রবন্ধ-শ্রীং হৌং। চন্দ্র-ঠৎ। বৰ্ম্ম-হং। কৃষ্ট হং। জয়দঐং। প্রাসাদ - হৌৎ। রক্ষা-হং। বাগ্ভব-ঐং। ভুবনেশী ও মায়া-হ্রীং। কাম = ক্লীং। শৰ্ম্মদ-ক্রীং ক্রীং।


রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫

আচমন

।।श्री।। 

নিত্যপূজার দেবতা জগদ্ধাত্রী, তারা প্রভৃতি তন্ত্রোক্ত শক্তি দেবতা হলে শাক্তাচমন করতে হয় এবং কালী হলে কাল্যাচমন করতে হয়।

শাক্তাচমন-

আচমন করার মতই হাতে ৩ বার জল নিয়-

(১) ওঁ আত্মতত্ত্বায় স্বাহা
(২) ওঁ বিদ্যাতত্ত্বায় স্বাহা
(৩) ও শিবতত্ত্বায় স্বাহা

বলে ৩বার জল পান করে হাত ধুয়ে আগের মত মার্জনাদি করতে হয়।

Achmana


কাল্যাচমন:-

'ক্রীং' বলে বলে তিনবার জল পান করে হাত ধুয়ে ওঁ কাল্যৈ নমঃ 

ওঁ কপালিন্যৈ নমঃ বলে (ওষ্ঠাধর মার্জন), 
ওঁ কুল্লায়ৈ নমঃ (হস্ত প্রক্ষালন।), 
ওঁ কুরুকুল্লায়ৈ নমঃ (মুখস্পর্শ),  
ওঁ বিরোধিন্যৈ নমঃ (দক্ষিণনাসা), 
ওঁ বিপ্রচিত্তায়ৈনমঃ (বামনাসা), 
ওঁ উগ্রায়ৈ নমঃ (দক্ষিণনেত্র), 
ওঁ উগ্রপ্রভায়ৈ নমঃ (বামনেত্র), 
ওঁ দীপ্তায়ৈ নমঃ (দক্ষিণকর্ণ), 
ওঁ নীলায়ৈ নমঃ (বামকর্ণ), 
ওঁ ঘনায়ৈ নমঃ (নাভি), 
ওঁ বলাকায়ৈ নমঃ (হৃদয়), 
ওঁ মাত্রায়ৈ নমঃ (মস্তক), 
ওঁ মুদ্রায়ৈ নমঃ (দক্ষিণ বাহুমূল), 
ওঁ মিতায়ৈ নমঃ (বাম বাহুমূল) স্পর্শ করতে হয়।

শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৫

সামবেদীয় সন্ধ্যাপদ্ধতি

।।श्री।।

সন্ধ্যার সাধারণ ব্যবস্থা

সন্ধ্যার প্রকৃত সময় অতীত হলে দশবার গায়ত্রী-জপরূপ প্রায়শ্চিত্ত করে সন্ধ্যা করবে। বৈদিকী সন্ধ্যায় বৈদিকী এবং তান্ত্রিকী সন্ধ্যায় তান্ত্রিকী গায়ত্রী জপ কর্তব্য।

সম্যগ্ধ্যায়ন্তি ধ্যায়তে বা পরব্রহ্ম যস্যাং সা সন্ধ্যা।

অস্যার্থঃ-সন্ধীয়তে পরব্রহ্ম সা সন্ধ্যা সম্ভিরুচ্যতে।

সূর্যোদয়ের একদণ্ড পূর্বে একদণ্ড পরে যে সময়, তাই প্রাতঃসন্ধ্যার কাল। সূর্য্য যৎকালে পশ্চিমাচলগমনোন্মুখ হয়ে সেইদিক অরুণরাগে রঞ্জিত করেন, সেরূপ সায়ং-সন্ধ্যার কাল। এবং যে সময় সূর্য্যদেব ঠিক আকাশের মধ্যস্থলে অবস্থান করেন, তখনই মধ্যাহ্নসন্ধ্যা করবে। ফলতঃ দিনমানের ন্যূনাধিক্যানুসারে এই সময় নিরূপণ করবে।

সন্ধ্যা করবার সময় মৌনভাবে থাকতে হয়। তখন হাঁচি বা নিষ্ঠীবন ফেললে, কথা বললে হাই তুললে, অধোবায়ুত্যাগ করলে কিংবা নিদ্রাকর্ষণ হলে বিষ্ণুস্মরণ পূর্বক দক্ষিণকর্ণ স্পর্শ করতে হয়, ইহাই ব্যবস্থা।
জননাশৌচ দিনে সন্ধ্যা নিষিদ্ধ। তদ্ভিন্ন অমাবস্যা, পূর্ণিমা, দ্বাদশী, সংক্রান্তি শ্রাদ্ধদিনে সায়ংসন্ধ্যা করবে না; কিন্তু নিষিদ্ধ দিবসে গায়ত্রী জপ করতে পারেন। তান্ত্রিক সন্ধ্যা কোন দিনেই নিষিদ্ধ নয়, প্রত্যহই কর্ত্তব্য।


Brahmin doing sandhyavandanam


প্রমাদ বশতঃ পূর্বসন্ধ্যার বাধ হলে পরসন্ধ্যা করবার আগে পূর্বসন্ধ্যা কর্তব্য। তিনটি সন্ধ্যারই বাধ হলে একদিন অনশনে থাকবে। তাতে অসমর্থ হলে একটি ব্রহ্মণভোজন করাবে কিংবা ভোজনদ্রব্যের উপযুক্ত মূল্য দিবে।

পূর্বাস্য হয়ে প্রাতঃসন্ধ্যা, পূর্বাস্য বা উদম্মুখ হয়ে মধ্যাহ্নসন্ধ্যা এবং নেতম্মুখো্যাস হয়ে সায়ং সন্ধ্যা করবে।

সন্ধ্যা কেবল উপনীত ব্রাহ্মণের পক্ষেই কর্তব্য।


মার্জন

প্রথমতঃ যথাবিধি আচমন পূর্বক নিম্নলিখিত ছয়টি মন্ত্র পাঠ করতে করতে কুশ অথবা বৃদ্ধ অনামিকা অঙ্গুলীর সংযোগে মস্তকে, ভূমিতে শূন্যদেশে জলের ছিটা দিতে হয়। তাকেই মার্জন বলে।

সন্ধ্যায় পর পর দশটি বিষয় সম্পন্ন করতে হয়। সেই দশটি-মার্জন, প্রাণায়াম আচমন, পুনর্মার্জন, অঘমর্ষণ, সূর্য্যোপস্থান, গায়ত্রীজপ, আত্মরক্ষা, রুদ্রোপস্থান এবং সূৰ্য্যাঘ্য।

মৃজ+ অন = মার্জন। অর্থ শুদ্ধ করা। মার্জনের মন্ত্রগুলি পাঠ করতে করতে কুশ দ্বারা অথবা অঙ্গুষ্ঠ অনামিকা অঙ্গুলির যোগে বিন্দু বিন্দু জল ভূমিতে, নিজ মস্তকে, আকাশে এবং পুনশ্চ আকাশে, ভূমিতে মস্তকে ছিটা দিতে হয়। জল জগৎ-পাবন,-জলের শুদ্ধি-দান শক্তি অনন্ত। মন্ত্র পাঠ দ্বারা সেই শক্তিকে আহ্বান করে অন্তর বাহ্য শুদ্ধি করাই মার্জনের উদ্দেশ্য। এতে উপাসকের ইচ্ছাশক্তি, জলের পাবন- শক্তি একত্র সংযুক্ত হয়ে সাধকের দেহ চিত্তশুদ্ধ করে থাকে।

ওঁ শন্ন আপো ধন্বন্যাঃশমু নঃ সত্ত্ব নৃপ্যাঃ।

শন্নঃ সমুদ্রিয়া আপঃশমু নঃ সন্তু কূপ্যাঃ॥ ১॥

ওঁ দ্রুপদাদিব মুমুচানঃস্বিন্নঃ স্নাতো মলাদিব।

পূতং পবিত্রেণেবাজ্যমাপঃ শুদ্ধন্তু মৈনসঃ॥ ২॥

ওঁ আপো হি ষ্ঠা ময়োভুবঃস্তা উর্জ্জে দধাতন। মহেরণায় চক্ষসে॥ ৩॥

ওঁ যো রঃ শিবতমো রসঃতস্য ভাজয়তেহ নঃ। উশতীরিব মাতরঃ॥ ৪॥

ওঁ স্ম অরং গমাম বোযস্য ক্ষয়ায় জিম্বথ। আপো জনয়থা নঃ॥ ৫॥

ওঁ ঋতঞ্চ সত্যঞ্চাভীদ্ধাৎতপসোহধ্যজায়ত।

ততো রাত্র্যজায়তততঃ সমুদ্রো অর্ণবঃ॥

ওঁ সমুদ্রাদর্ণবাদধিসংবৎসরো অজায়ত।

অহোরাত্রাণি বিদধদবিশ্বস্য মিষতো বশী॥

ওঁ সূর্য্যাচন্দ্রমসৌ ধাতাযথাপূর্বমকল্পয়ৎ। দিবঞ্চ পৃথিবী-ঞ্চান্তরিক্ষ মথো স্বঃ॥ ৬॥


প্রাণায়াম

(নিম্নোক্ত মন্ত্রগুলি হাতজোড় করে পাঠ করত ঋষ্যাদি স্মরণ করবে।)

ওঁ কারস্য ব্রহ্মাঋষির্গায়ত্রীচ্ছন্দোগ্নিদেবতা সর্বকর্মারম্ভে বিনিয়োগঃ॥ ৭॥

জগত্যশ্ছন্দাংসি, অগ্নি-বায়ু সূর্য্যবরুণ-বৃহস্পতীন্দ্র-বিশ্বদেবা দেবতাঃ 

প্রাণায়ামে বিনিয়োগঃ॥ ৮॥

সবিতা দেবতা প্রাণায়ামে বিনিয়োগঃ॥ ৯॥

ব্রহ্মবাযুগ্নিসূর্য্যাশ্চতস্রো দেবতাঃ প্রাণায়ামে বিনিয়োগঃ॥ ১০॥

সপ্তব্যাহৃতীনাং প্রজাপতি ঋষিগায়্যত্রুয়াষ্ণিগনুষ্টুব্‌-বৃহতীপঙ্ক্তি ত্রিষ্টুব্গায়ত্রা বিশ্বামিত্র ঋষির্গায়ত্রীছন্দঃ গায়ত্রীশিরসঃ প্রজাপতিঋষির্গায়ত্রীছন্দো॥


অনন্তর প্রাণায়াম

নিজ শরীরের চতুর্দিকে জল বেষ্টন করে অগ্নির প্রাচীর বেষ্টন করে আছে, এরূপ চিন্তা করেদক্ষিণ হস্তের বৃদ্ধ অঙ্গুলি দ্বারা দক্ষিণ নাসাপুট টিপে বাম নাসাপথে বায়ু আকর্ষণ করে পূরক করবে  নিম্নোক্ত মন্ত্র পাঠ করতঃ মন্ত্রের প্রতিপাদ্য দেবতার ধ্যান করবে।

(নাভৌওঁ রক্তবর্ণং চতুর্মুখং দ্বিভুজং অক্ষসূত্র-কমণ্ডলুকরং হংসবাহনস্থ ব্রহ্মাণং ধ্যায়ন।। ১১॥

ওঁ ভূঃ ওঁ ভুবঃ ওঁ স্বঃ ওঁ মহঃ ওঁ জনঃ ওঁ তপঃ ওঁ সত্যং।।

ওঁ তৎ সবিতুর্বরেণ্যং ভর্গো দেবস্য ধীমহি।

ধিয়ো য়ো নঃ প্রয়োদয়াৎ ওঁ।।

ওঁ আপোজ্যোতী রসোংমৃতং ব্রহ্ম ভূর্ভুবঃ স্বরোম্।। ১২॥

দক্ষিণ নাসিকা আগেকার মত চেপে রেখে অনামিকা কনিষ্ঠা অঙ্গুলি দ্বারা বাম নাসাপুট চেপে শ্বাসরোধ রূপ কুম্ভক করে পাঠ করবে

(হৃদিওঁ নীলোৎপলদলপ্রভং চতুর্ভুজং শঙ্খচক্রগদাপদ্মহস্তং গরুড়ারূঢ়ং কেশবং ধ্যায়ন।। ১৩॥

ওঁ ভূঃ ওঁ ভুবঃ ওঁ স্বঃ ওঁ মহঃ ওঁ জনঃ ওঁ তপঃ ওঁ সত্যং।।

তৎ সবিতুর্বরেণ্যং ভর্গো দেবস্য ধীমহি।

ধিয়ো য়োঃ নঃ প্রয়োদয়াৎ ওঁ।।

ওঁ আপোজ্যোতীরসোহমৃতং ব্রহ্ম ভূর্ভুবঃ স্বরোম্।। ১৪॥

অনন্তর
দক্ষিণ নাসিকা থেকে বৃদ্ধাঙ্গুলি তুলে নিয়ে অল্প অল্প এবং অবিচ্ছিন্নভাবে গৃহীত বায়ু পরিত্যাগ করবে।মন্ত্র যথা

(ললাটেওঁ শ্বেতং দ্বিভুজং ত্রিশূল-ডমরুকরম্ অর্ধচন্দ্রবিভূষিতম্, ত্রিনেত্রম্ বৃষভারূঢ়ং শম্ভুং ধ্যায়ন।। ১৫॥

ওঁ ভূঃ ওঁ ভুবঃ ওঁ স্বঃ ওঁ মহঃ ওঁ জনঃ ওঁ তপন দ্রবিভূষিতম্,

ওঁ তৎ সবিতুর্বরেণ্যং ভর্গো দেবস্য তপঃ ওঁ সত্যং।

ধীমহি। ধিয়ো য়ো নঃ প্রয়োদয়াৎ ওঁ।।

ওঁ আপোজ্যোতীরসোহমৃতং ব্রহ্ম ভূর্ভুবঃ স্বরোম্।। ১৬॥


আচমন 

ডান হাতে জল নিয়ে প্রাতঃসন্ধ্যা সময়ে নিম্নোক্ত মন্ত্র পাঠ পূর্বক তিনবার জলপান করবে এবং আচমনের নিয়মে ওষ্ঠদি মার্জন করবে।

প্রাতঃসন্ধ্যার আচমন মন্ত্র যথা

ওঁ সূর্য্যশ্চ মেতি মন্ত্রস্য ব্রহ্মঋষিঃ প্রকৃতিচ্ছন্দ আপো দেবতা আচমনে বিনিয়োগঃ।

 

ওঁ সূর্য্যশ্চ মা মন্যুশ্চ মুন্যুপতয়শ্চ।

মন্যুকৃতেভ্যঃ পাপেভ্যোঃ রক্ষন্তাম্।

যদ্রাত্রিয়া পাপমকারিষং মনসা বাচা হস্তাভ্যাং প্যামুদরেণ শিশ্না।

রাত্রিস্তদবলুম্পতু, যৎ কিঞ্চ দুরিতং ময়ি।

ইদমহং মা-মমৃতযোনৌ সূর্য্যে জ্যোতিষি জুহোমি স্বাহা॥ ১৭॥

মধ্যাহ্ন সন্ধ্যার আচমন মন্ত্র
প্রাতঃসন্ধ্যার আচমন মন্ত্র মধ্যাহ্নে পড়া হবে না। মধ্যাহ্ন সন্ধ্যার আচমন মন্ত্র যথা

আপঃ পুনস্তুতি মন্ত্রস্য বিষ্ণু  যিরনুষ্টুপচ্ছন্দ আপো দেবতা আচমনে বিনিয়োগঃ।

 

ওঁ আপঃ পুনন্তু পৃথিবীং, পৃথ্বী পূতা পুনাতু মাং।

পুনস্তু ব্রহ্মণস্পতি, ব্রহ্ম পূতা পুনাতু মাম্।

যদুচ্ছিষ্টমভোজ্যঞ্চ, যদ্বা দুশ্চরিতং মম।

সর্বং পুনন্তু মামাপোহ সতাঞ্চ প্রতিগ্রহং স্বাহা॥ ১৮॥

সায়ংকালীন আচমন মন্ত্র
সায়ংকালে দুই মন্ত্রে আচমন না করে নিম্নোক্ত সায়ংকালের আচমন মন্ত্র পাঠ করা হবে

অগ্নিশ্চ মেতি মন্ত্রস্য রুদ্র ঋষিঃ প্রকৃতিচ্ছন্দ আপো দেবতা আচমনে বিনিয়োগঃ।

 

ওঁ অগ্নিশ্চ মা মন্যুশ্চ মন্যুপতয়শ্চ।

মন্যুকৃতেভ্যঃ পাপেভ্যো রক্ষন্তাং।।

যদহ্না পাপ-মকারিষং মনসা বাচা হস্তাভ্যাং প্যা মুদরেণ শিশ্বা।

অহস্তদবলুম্পতু, যৎ কিঞ্চ দুরিতং ময়ি।

ইদমহং মামমৃতযোনৌ সত্যে জ্যোতিষি জুহোমি স্বাহা॥ ১৯॥


পুনর্মার্জন-

ওঁ বলে একবারভূঃ ভুবঃ স্বঃ বলে একবারতৎ সবিতুর্বরেণ্যং ভর্গো দেবস্য ধীমহি ধিয়ো য়ো নঃ প্রচোদয়াৎ বলে আর একবার।

এই তিনবার, নিজ মস্তকেজলের ছিটা নিম্নোক্ত তিনটি মন্ত্র পাঠ করে একবার মস্তকে জলের ছিটা দেবে:

অপোহিষ্ঠেতি ঋক্রয়স্য সিন্ধুদ্বীপ ঋষির্গায়ত্রীচ্ছদ আপো দেবতা মার্জনে বিনিয়োগঃ।

ওঁ আপো হিষ্ঠা ময়ো ভুব,-স্তা উর্দ্ধে দধাতন। মহে রণায় চক্ষসে॥ ১॥

ওঁ যো বঃ শিবতমো রস স্তস্য ভাজয়তেহ নঃ উশতীরিব মাতরঃ॥ ২॥

ওঁ তস্মা অরং গমাম বো, যস্য ক্ষয়ায় জিম্বথ। আপো জনয়থা নঃ॥ ৩॥ ২০॥

 


অঘমর্ষণ 

ডান হাতে করে এক গণ্ডুষ জল নিয়ে নাসিকার নিকট ধরে পাঠ করবে

ঋতমিত্যস্য অঘমর্ষণ ঋষি-রনুষ্টুপ্চ্ছন্দো ভাববৃত্তি দেবতা অশ্বমেধাব ভৃথে বিনিয়োগঃ।

 

ওঁ ঋতঞ্চ সত্যঞ্চভীদ্ধাৎ তপসোহধ্যজাত।

ততো রাত্র্যজায়ত, ততঃ সমুদ্রো অর্ণবঃ।

ওঁ সমুদ্রাদর্ণবাদধি, সংবৎসরো অজায়ত।

অহোরাত্রাণি বিদধদ, বিশ্বস্য মিষতো বশী।

ওঁ সূর্য্যাচন্দ্রমসৌ ধাতা, যথাপূর্বমকল্পয়ৎ।

দিবঞ্চ পৃথিবীঞ্চান্তরিক্ষমথো স্বঃ॥ ২১॥

 

এই মন্ত্রপাঠ করে নাভিদেশ থেকে নিশ্বাস টেনে সেই জল গভৃষোপরি  নিশ্বাস ত্যাগ করবে, এবং চিন্তা করবে— শরীরস্থ কৃষ্ণবর্ণ পাপ-পুরুষ দেহ থেকে বহির্গত হয়ে এসে এই জলে মিশেছে তৎসংসর্গে হস্তস্থ জল-গভূষ কৃষ্ণবর্ণ হয়ে গিয়েছে। তৎপরে সেই জল বাম পার্শ্বস্থ ভূমিতে নিক্ষেপ করবে।


সূর্য্যোপস্থান 

অনন্তর সূর্য্যোপস্থান করবে। তদার্থে

ওঁ ভূর্ভু বঃস্বঃ।

তৎ সবিতুর্বরেণ্যং, ভর্গো দেবস্য ধীমহি।

ধিয়ো য়ো নঃ প্রচোদয়াৎ ওঁ॥

 এই গায়ত্রী প্রাতঃসন্ধ্যা সায়ং-সন্ধ্যাকালে তিনবার এবং মধ্যাহ্ন সন্ধ্যায় একবার পাঠ করে— প্রাতঃ সায়ংসন্ধ্যায় তিন অঞ্জলিমধ্যাহ্ন-সন্ধ্যায় এক অঞ্জলি জল সূর্য্যাভিমুখে প্রদান করবে। তদনন্তর দুই পায়ের অগ্রভাগে বা এক পায়ের অগ্রভাগে ভর করে সূর্য্যাভিমুখে দাঁড়িয়ে— প্রাতঃকালে সায়ংকালে কৃতাঞ্জলি হয়েমধ্যাহ্নে উর্দ্ধবাহু হয়ে নিম্নলিখিত মন্ত্র পাঠ করবে।

 

উদুত্যমিত্যস্য প্রস্কণ্ব ঋষির্গায়ত্রীচ্ছন্দঃ সূৰ্য্যো দেবতা সূৰ্য্যোপস্থানে বিনিয়োগঃ।

ওঁ উদুত্যং জাতবেদসং, দেবং বহন্তি কেতবঃ।

দৃশে বিশ্বায় সূর্য্যং॥ ২২॥

চিত্রমিত্যস্য কুৎস ঋষি-স্ত্রিষ্টুপ্ ছন্দঃ সূর্য্যো দেবতা সূর্য্যোপস্থানে বিনিয়োগঃ।

ওঁ চিত্রং দেবানামুগাদনীকং, চক্ষুমিত্রস্য বরুণস্যাগ্নেঃ।
আপ্রা দ্যাবাপৃথিবী অন্তরিক্ষং, সূর্য্য আত্মা জগতস্তম্ভূযশ্চ।। ২৩॥


বংশোপস্থান-

অনন্তর নিম্নলিখিত মন্ত্রে এক এক অঞ্জলি জল দান করবে। 

·      ওঁ ব্রহ্মণে নমঃ।

·      ওঁ ব্রাহ্মণেভ্যো নমঃ।

·      ওঁ আচার্য্যেভ্যো নমঃ।

·      ওঁ ঋষিভ্যো নমঃ।

·      ওঁ দেবেভ্যো নমঃ।

·      ওঁ বেদেভ্যোঃ নমঃ।

·      ওঁ বায়বে নমঃ।

·      ওঁ মৃত্যবে নমঃ।

·      ওঁ বিষ্ণবে নমঃ।

·      ওঁ বৈশ্রবণায় নমঃ।

·      ওঁ উপজায় নমঃ।

(মধ্যাহ্ন স্নানের পর তর্পণ করলে এই সময়ে করতে হয়।)


তর্পণ


গায়ত্রীর আবাহন-

প্রথমে হাত যোড় করে নিম্নোক্ত মন্ত্রে গায়ত্রীর আবাহন করবে।
মন্ত্র, যথা-

ওঁ আয়াহি বরদে দেবি, এ্যক্ষরে ব্রহ্মবাদিনি।

গায়ত্রি চ্ছন্দসাং মাত ব্রহ্মযোনি নমোহস্তু তে।।২৪


অতঃপর অঙ্গন্যাস করবে। যথা-

  • ওঁ হৃদয়ায় নমঃ — তর্জনী, মধ্যমা অনামিকা অঙ্গুলির অগ্রভাগ দ্বারা নিজ হৃদয় স্পর্শ করবে।
  • ওঁ ভুঃ শিরসে স্বাহা — তর্জনী মধ্যমা অঙ্গুলীর অগ্রভাগ দ্বারা মস্তক স্পর্শ।
  • ওঁ ভুবঃ শিখায়ৈ বষট্ — বৃদ্ধ অঙ্গুলীর অগ্রভাগ দ্বারা শিখা স্পর্শ।
  • ওঁ স্বঃ কবচায় হুং — দক্ষিণ হস্তের পাঁচটি অঙ্গুলীর অগ্রভাগ দ্বারা বাম বাহুমূল, এবং বাম হস্তের পাঁচ অঙ্গুলীর অগ্রভাগ দ্বারা দক্ষিণ বাহুমূল স্পর্শ করবে।
  • ওঁ ভূর্ভুবঃ স্বঃ নেত্রত্রয়ায় বৌষট্ — তর্জনী, মধ্যমা অনামিকা অঙ্গুলি দ্বারা চক্ষু স্পর্শ করবে।
  • ওঁ তৎসবিতুর্বরেণ্যং ভর্গো দেবস্য ধীমহি ধিয়ো য়ো নঃ প্রচোদয়াৎ ওঁ করতল পৃষ্ঠাভ্যাং অস্ত্রায় ফট — দক্ষিণ হস্তের তর্জনী মধ্যমা অঙ্গুলী যোগ করে বামহস্তের পিঠ তল স্পর্শ করবে।

এইরূপ।
অঙ্গন্যাস আর দুবার অর্থাৎ মোট তিনবার করিতে হবে।

অতঃপর গায়ত্রী শাপোদ্ধার পাঠ করতে হবে।


গায়ত্রী শাপোদ্ধার 


গায়ত্রীর ধ্যান -


পরবর্তীতে নিম্নোক্ত মন্ত্র পাঠ করে তিন বেলায় তিন প্রকার গায়ত্রীর ধ্যান করবে। মন্ত্র-

গায়া বিশ্বামিত্র ঋষির্গায়ত্রী চ্ছন্দঃ

সবিতা দেবতা জপোপনয়নে বিনিয়োগঃ।। ২৫


গায়ত্রীর প্রাতঃকালের ধ্যান-

ওঁ কুমারীম্ ঋগ্বেদযুতাং ব্রহ্মরূপাং বিচিন্তয়েৎ।

হংসস্থিতাং কুশহস্তাং সূর্যমণ্ডল সংস্থিতাম্।।২৬

(প্রাতঃসন্ধ্যা কালে এই ধ্যান পড়তে হয়।)


মধ্যাহ্ন কালের ধ্যান-

মধ্যাহ্নে বিষ্ণুরূপাঞ্চ তাক্ষস্থাং পীতবাসসম্।

যুবতীঞ্চ যজুর্বেদাং সূর্য্যমণ্ডল সংস্থিতাং।। ২৭

(মধ্যাহ্ন-সন্ধ্যায় এই ধ্যান পড়বে।)


সায়াহ্ন কালের ধ্যান-

ওঁ সায়াহ্নে শিবরূপাঞ্চ বৃদ্ধাং বৃষভবাহিনীং।

সূর্য্যামণ্ডল-মধ্যস্থাং সামবেদ-সমাযুতাং।। ২৮

(সায়ং সন্ধ্যাকালে এই ধ্যান পড়বে।)


অতঃপর গায়ত্রী জপ করবে। গায়ত্রী যথা-

ওঁ ভূর্ভুবঃ স্বঃ।

তৎ সবিতুর্বরেণ্যং, ভর্গো দেবস্য ধীমহি।

থিয়ো য়ো নঃ প্রচোদয়াৎ ওঁ।।

অশক্ত পক্ষে অন্ততঃ দশবার জপ করতে হবে।জপান্তে গায়ত্রী বিসর্জন করবে।

জলাঞ্জলি পাঠ

 এক অঞ্জলি জল নিয়ে পাঠ করবে-

ওঁ মহেশবদনোৎপন্না বিষ্ণোহৃদয়-সম্ভবা।

ব্রহ্মণা সমনুজ্ঞাতা গচ্ছ দেবি যথেচ্ছয়া।। ২৯

 

গৃহীত জলাঞ্জলি পরিত্যাগ করে পুনরায় আর এক অঞ্জলি জল নিয়ে পাঠ করবে-

 ওঁ অনেন জপেন ভগবন্তা-বাদিত্যশুক্রৌ প্রীয়েতাম।

ওঁ আদিত্যশুক্রাভ্যাং নমঃ।। ৩০

 এই বলে জলাঞ্জলি দেবে।

সময়ে সম্ভব হলে গায়ত্রীহৃদয়  গায়ত্রী কবচ পাঠ করবে।


গায়ত্রীহৃদয়  গায়ত্রী কবচ 


আত্মরক্ষা-

দক্ষিণ কর্ণমূলের পৃষ্ঠদেশ দক্ষিণ হস্তের অঙ্গুষ্ঠের পৃষ্ঠদেশের মধ্য ভাগ দ্বারা স্পর্শ করে আত্মরক্ষার মন্ত্র পাঠ করবে। 
মন্ত্র, যথা-

জাতবেদস ইত্যস্য কাশ্যপ ঋষি-স্ত্রিষ্টুপ্ ছন্দোইগ্নিদেবতা, আত্মরক্ষায়াং জপে বিনিয়োগঃ।

ওঁ জাতবেদসে সুনবাম সোম,-মরাতীয়তো নি দহাতি

বেদঃ পর্যদতি দুর্গাণি বিশ্বা, নাবেব সিন্ধুং দুরিতাত্যগ্নিঃ।। ৩১

 

অনন্তর রুদ্রোপস্থান করবে-


রুদ্রোপস্থান-

কৃতাঞ্জলি হয়ে রুদ্রোপস্থানের নিম্নোক্ত মন্ত্র পাঠ করবে।
মন্ত্র, যথা-

তমিত্যস্য কালাগ্নিরুদ্র ঋষি-রনুষ্টুপ্ ছন্দোরুদ্রো দেবতা রুদ্রোপস্থানে বিনিয়োগঃ।

ওঁ ঋতং সত্যং পরং ব্রহ্ম, পুরুষং কৃষ্ণপিঙ্গলম্।

ঊর্দ্ধলিঙ্গং বিরূপাক্ষং বিশ্বরূপং নমো নমঃ।। ৩২

নিম্নোক্ত মন্ত্র পাঠ করে প্রত্যেক মন্ত্রে এক এক অঞ্জলি জল দেবে।
যথা-

·      ওঁ ব্রহ্মণে নমঃ।

·      ওঁ অভ্যো নমঃ।

·      ওঁ বরুণায় নমঃ।

·      ওঁ বিষ্ণবে নমঃ।

·      ওঁ রুদ্রায় নমঃ।

·      ওঁ বরুণায় নমঃ।

(এই স্থলে ব্রহ্মযজ্ঞ মধ্যাহ্ন সন্ধ্যায় করতে হয়, যা সন্ধ্যার শেষে লিখিত হয়েছে।)

অতঃপর সূর্য্যার্ঘ্য দেবে।


ব্রহ্মযজ্ঞ


সূর্যার্ঘ্য-

(কেবল জল দিয়েও অর্ঘ্য দেওয়া যায়।)

ওঁ নমো বিবস্বতে ব্রহ্মন, ভাস্বতে বিষ্ণুতেজসে।

জগৎ সবিত্রে শুচয়ে, সবিত্রে কর্মদায়িনে।।

ইদমর্য্যং ওঁ নমো ভগবতে সূর্যভট্টারকায় নমঃ।। ৩৩

 

অনন্তর সূর্য্যদেবকে প্রণাম করবে। 


সূর্য্যের প্রণাম মন্ত্র, যথা-

ওঁ জবাকুসুম্ সঙ্কাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিম্

ধ্বান্তারিং সর্বপাপঘ্নং প্রণতোহস্মি দিবাকরম্।। ৩৪


অতঃপর নিম্নোক্ত মন্ত্র পাঠ করে দক্ষিণ হস্ত দ্বারা এক জল গায়ত্রীকে দিয়ে ত্রুটি মার্জনার প্রার্থনা করবে।
মন্ত্র, যথা-

ওঁ যদক্ষরং পরিভ্রষ্টং মাত্রাহীনঞ্চ যদ্ভবেৎ।

পূর্ণং ভবতু তৎ সর্বং তৎপ্রসাদাৎ সুরেশ্বরি।। ৩৫

 

অনন্তর আচমন করবে।

ইতি সামবেদীয় সন্ধ্যাপ্রয়োগ সম্পূর্ণ।