শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৫

সামবেদীয় সন্ধ্যাপদ্ধতি

।।श्री।।

সন্ধ্যার সাধারণ ব্যবস্থা

সন্ধ্যার প্রকৃত সময় অতীত হলে দশবার গায়ত্রী-জপরূপ প্রায়শ্চিত্ত করে সন্ধ্যা করবে। বৈদিকী সন্ধ্যায় বৈদিকী এবং তান্ত্রিকী সন্ধ্যায় তান্ত্রিকী গায়ত্রী জপ কর্তব্য।

সম্যগ্ধ্যায়ন্তি ধ্যায়তে বা পরব্রহ্ম যস্যাং সা সন্ধ্যা।

অস্যার্থঃ-সন্ধীয়তে পরব্রহ্ম সা সন্ধ্যা সম্ভিরুচ্যতে।

সূর্যোদয়ের একদণ্ড পূর্বে একদণ্ড পরে যে সময়, তাই প্রাতঃসন্ধ্যার কাল। সূর্য্য যৎকালে পশ্চিমাচলগমনোন্মুখ হয়ে সেইদিক অরুণরাগে রঞ্জিত করেন, সেরূপ সায়ং-সন্ধ্যার কাল। এবং যে সময় সূর্য্যদেব ঠিক আকাশের মধ্যস্থলে অবস্থান করেন, তখনই মধ্যাহ্নসন্ধ্যা করবে। ফলতঃ দিনমানের ন্যূনাধিক্যানুসারে এই সময় নিরূপণ করবে।

সন্ধ্যা করবার সময় মৌনভাবে থাকতে হয়। তখন হাঁচি বা নিষ্ঠীবন ফেললে, কথা বললে হাই তুললে, অধোবায়ুত্যাগ করলে কিংবা নিদ্রাকর্ষণ হলে বিষ্ণুস্মরণ পূর্বক দক্ষিণকর্ণ স্পর্শ করতে হয়, ইহাই ব্যবস্থা।
জননাশৌচ দিনে সন্ধ্যা নিষিদ্ধ। তদ্ভিন্ন অমাবস্যা, পূর্ণিমা, দ্বাদশী, সংক্রান্তি শ্রাদ্ধদিনে সায়ংসন্ধ্যা করবে না; কিন্তু নিষিদ্ধ দিবসে গায়ত্রী জপ করতে পারেন। তান্ত্রিক সন্ধ্যা কোন দিনেই নিষিদ্ধ নয়, প্রত্যহই কর্ত্তব্য।


Brahmin doing sandhyavandanam


প্রমাদ বশতঃ পূর্বসন্ধ্যার বাধ হলে পরসন্ধ্যা করবার আগে পূর্বসন্ধ্যা কর্তব্য। তিনটি সন্ধ্যারই বাধ হলে একদিন অনশনে থাকবে। তাতে অসমর্থ হলে একটি ব্রহ্মণভোজন করাবে কিংবা ভোজনদ্রব্যের উপযুক্ত মূল্য দিবে।

পূর্বাস্য হয়ে প্রাতঃসন্ধ্যা, পূর্বাস্য বা উদম্মুখ হয়ে মধ্যাহ্নসন্ধ্যা এবং নেতম্মুখো্যাস হয়ে সায়ং সন্ধ্যা করবে।

সন্ধ্যা কেবল উপনীত ব্রাহ্মণের পক্ষেই কর্তব্য।


মার্জন

প্রথমতঃ যথাবিধি আচমন পূর্বক নিম্নলিখিত ছয়টি মন্ত্র পাঠ করতে করতে কুশ অথবা বৃদ্ধ অনামিকা অঙ্গুলীর সংযোগে মস্তকে, ভূমিতে শূন্যদেশে জলের ছিটা দিতে হয়। তাকেই মার্জন বলে।

সন্ধ্যায় পর পর দশটি বিষয় সম্পন্ন করতে হয়। সেই দশটি-মার্জন, প্রাণায়াম আচমন, পুনর্মার্জন, অঘমর্ষণ, সূর্য্যোপস্থান, গায়ত্রীজপ, আত্মরক্ষা, রুদ্রোপস্থান এবং সূৰ্য্যাঘ্য।

মৃজ+ অন = মার্জন। অর্থ শুদ্ধ করা। মার্জনের মন্ত্রগুলি পাঠ করতে করতে কুশ দ্বারা অথবা অঙ্গুষ্ঠ অনামিকা অঙ্গুলির যোগে বিন্দু বিন্দু জল ভূমিতে, নিজ মস্তকে, আকাশে এবং পুনশ্চ আকাশে, ভূমিতে মস্তকে ছিটা দিতে হয়। জল জগৎ-পাবন,-জলের শুদ্ধি-দান শক্তি অনন্ত। মন্ত্র পাঠ দ্বারা সেই শক্তিকে আহ্বান করে অন্তর বাহ্য শুদ্ধি করাই মার্জনের উদ্দেশ্য। এতে উপাসকের ইচ্ছাশক্তি, জলের পাবন- শক্তি একত্র সংযুক্ত হয়ে সাধকের দেহ চিত্তশুদ্ধ করে থাকে।

ওঁ শন্ন আপো ধন্বন্যাঃশমু নঃ সত্ত্ব নৃপ্যাঃ।

শন্নঃ সমুদ্রিয়া আপঃশমু নঃ সন্তু কূপ্যাঃ॥ ১॥

ওঁ দ্রুপদাদিব মুমুচানঃস্বিন্নঃ স্নাতো মলাদিব।

পূতং পবিত্রেণেবাজ্যমাপঃ শুদ্ধন্তু মৈনসঃ॥ ২॥

ওঁ আপো হি ষ্ঠা ময়োভুবঃস্তা উর্জ্জে দধাতন। মহেরণায় চক্ষসে॥ ৩॥

ওঁ যো রঃ শিবতমো রসঃতস্য ভাজয়তেহ নঃ। উশতীরিব মাতরঃ॥ ৪॥

ওঁ স্ম অরং গমাম বোযস্য ক্ষয়ায় জিম্বথ। আপো জনয়থা নঃ॥ ৫॥

ওঁ ঋতঞ্চ সত্যঞ্চাভীদ্ধাৎতপসোহধ্যজায়ত।

ততো রাত্র্যজায়তততঃ সমুদ্রো অর্ণবঃ॥

ওঁ সমুদ্রাদর্ণবাদধিসংবৎসরো অজায়ত।

অহোরাত্রাণি বিদধদবিশ্বস্য মিষতো বশী॥

ওঁ সূর্য্যাচন্দ্রমসৌ ধাতাযথাপূর্বমকল্পয়ৎ। দিবঞ্চ পৃথিবী-ঞ্চান্তরিক্ষ মথো স্বঃ॥ ৬॥


প্রাণায়াম

(নিম্নোক্ত মন্ত্রগুলি হাতজোড় করে পাঠ করত ঋষ্যাদি স্মরণ করবে।)

ওঁ কারস্য ব্রহ্মাঋষির্গায়ত্রীচ্ছন্দোগ্নিদেবতা সর্বকর্মারম্ভে বিনিয়োগঃ॥ ৭॥

জগত্যশ্ছন্দাংসি, অগ্নি-বায়ু সূর্য্যবরুণ-বৃহস্পতীন্দ্র-বিশ্বদেবা দেবতাঃ 

প্রাণায়ামে বিনিয়োগঃ॥ ৮॥

সবিতা দেবতা প্রাণায়ামে বিনিয়োগঃ॥ ৯॥

ব্রহ্মবাযুগ্নিসূর্য্যাশ্চতস্রো দেবতাঃ প্রাণায়ামে বিনিয়োগঃ॥ ১০॥

সপ্তব্যাহৃতীনাং প্রজাপতি ঋষিগায়্যত্রুয়াষ্ণিগনুষ্টুব্‌-বৃহতীপঙ্ক্তি ত্রিষ্টুব্গায়ত্রা বিশ্বামিত্র ঋষির্গায়ত্রীছন্দঃ গায়ত্রীশিরসঃ প্রজাপতিঋষির্গায়ত্রীছন্দো॥


অনন্তর প্রাণায়াম

নিজ শরীরের চতুর্দিকে জল বেষ্টন করে অগ্নির প্রাচীর বেষ্টন করে আছে, এরূপ চিন্তা করেদক্ষিণ হস্তের বৃদ্ধ অঙ্গুলি দ্বারা দক্ষিণ নাসাপুট টিপে বাম নাসাপথে বায়ু আকর্ষণ করে পূরক করবে  নিম্নোক্ত মন্ত্র পাঠ করতঃ মন্ত্রের প্রতিপাদ্য দেবতার ধ্যান করবে।

(নাভৌওঁ রক্তবর্ণং চতুর্মুখং দ্বিভুজং অক্ষসূত্র-কমণ্ডলুকরং হংসবাহনস্থ ব্রহ্মাণং ধ্যায়ন।। ১১॥

ওঁ ভূঃ ওঁ ভুবঃ ওঁ স্বঃ ওঁ মহঃ ওঁ জনঃ ওঁ তপঃ ওঁ সত্যং।।

ওঁ তৎ সবিতুর্বরেণ্যং ভর্গো দেবস্য ধীমহি।

ধিয়ো য়ো নঃ প্রয়োদয়াৎ ওঁ।।

ওঁ আপোজ্যোতী রসোংমৃতং ব্রহ্ম ভূর্ভুবঃ স্বরোম্।। ১২॥

দক্ষিণ নাসিকা আগেকার মত চেপে রেখে অনামিকা কনিষ্ঠা অঙ্গুলি দ্বারা বাম নাসাপুট চেপে শ্বাসরোধ রূপ কুম্ভক করে পাঠ করবে

(হৃদিওঁ নীলোৎপলদলপ্রভং চতুর্ভুজং শঙ্খচক্রগদাপদ্মহস্তং গরুড়ারূঢ়ং কেশবং ধ্যায়ন।। ১৩॥

ওঁ ভূঃ ওঁ ভুবঃ ওঁ স্বঃ ওঁ মহঃ ওঁ জনঃ ওঁ তপঃ ওঁ সত্যং।।

তৎ সবিতুর্বরেণ্যং ভর্গো দেবস্য ধীমহি।

ধিয়ো য়োঃ নঃ প্রয়োদয়াৎ ওঁ।।

ওঁ আপোজ্যোতীরসোহমৃতং ব্রহ্ম ভূর্ভুবঃ স্বরোম্।। ১৪॥

অনন্তর
দক্ষিণ নাসিকা থেকে বৃদ্ধাঙ্গুলি তুলে নিয়ে অল্প অল্প এবং অবিচ্ছিন্নভাবে গৃহীত বায়ু পরিত্যাগ করবে।মন্ত্র যথা

(ললাটেওঁ শ্বেতং দ্বিভুজং ত্রিশূল-ডমরুকরম্ অর্ধচন্দ্রবিভূষিতম্, ত্রিনেত্রম্ বৃষভারূঢ়ং শম্ভুং ধ্যায়ন।। ১৫॥

ওঁ ভূঃ ওঁ ভুবঃ ওঁ স্বঃ ওঁ মহঃ ওঁ জনঃ ওঁ তপন দ্রবিভূষিতম্,

ওঁ তৎ সবিতুর্বরেণ্যং ভর্গো দেবস্য তপঃ ওঁ সত্যং।

ধীমহি। ধিয়ো য়ো নঃ প্রয়োদয়াৎ ওঁ।।

ওঁ আপোজ্যোতীরসোহমৃতং ব্রহ্ম ভূর্ভুবঃ স্বরোম্।। ১৬॥


আচমন 

ডান হাতে জল নিয়ে প্রাতঃসন্ধ্যা সময়ে নিম্নোক্ত মন্ত্র পাঠ পূর্বক তিনবার জলপান করবে এবং আচমনের নিয়মে ওষ্ঠদি মার্জন করবে।

প্রাতঃসন্ধ্যার আচমন মন্ত্র যথা

ওঁ সূর্য্যশ্চ মেতি মন্ত্রস্য ব্রহ্মঋষিঃ প্রকৃতিচ্ছন্দ আপো দেবতা আচমনে বিনিয়োগঃ।

 

ওঁ সূর্য্যশ্চ মা মন্যুশ্চ মুন্যুপতয়শ্চ।

মন্যুকৃতেভ্যঃ পাপেভ্যোঃ রক্ষন্তাম্।

যদ্রাত্রিয়া পাপমকারিষং মনসা বাচা হস্তাভ্যাং প্যামুদরেণ শিশ্না।

রাত্রিস্তদবলুম্পতু, যৎ কিঞ্চ দুরিতং ময়ি।

ইদমহং মা-মমৃতযোনৌ সূর্য্যে জ্যোতিষি জুহোমি স্বাহা॥ ১৭॥

মধ্যাহ্ন সন্ধ্যার আচমন মন্ত্র
প্রাতঃসন্ধ্যার আচমন মন্ত্র মধ্যাহ্নে পড়া হবে না। মধ্যাহ্ন সন্ধ্যার আচমন মন্ত্র যথা

আপঃ পুনস্তুতি মন্ত্রস্য বিষ্ণু  যিরনুষ্টুপচ্ছন্দ আপো দেবতা আচমনে বিনিয়োগঃ।

 

ওঁ আপঃ পুনন্তু পৃথিবীং, পৃথ্বী পূতা পুনাতু মাং।

পুনস্তু ব্রহ্মণস্পতি, ব্রহ্ম পূতা পুনাতু মাম্।

যদুচ্ছিষ্টমভোজ্যঞ্চ, যদ্বা দুশ্চরিতং মম।

সর্বং পুনন্তু মামাপোহ সতাঞ্চ প্রতিগ্রহং স্বাহা॥ ১৮॥

সায়ংকালীন আচমন মন্ত্র
সায়ংকালে দুই মন্ত্রে আচমন না করে নিম্নোক্ত সায়ংকালের আচমন মন্ত্র পাঠ করা হবে

অগ্নিশ্চ মেতি মন্ত্রস্য রুদ্র ঋষিঃ প্রকৃতিচ্ছন্দ আপো দেবতা আচমনে বিনিয়োগঃ।

 

ওঁ অগ্নিশ্চ মা মন্যুশ্চ মন্যুপতয়শ্চ।

মন্যুকৃতেভ্যঃ পাপেভ্যো রক্ষন্তাং।।

যদহ্না পাপ-মকারিষং মনসা বাচা হস্তাভ্যাং প্যা মুদরেণ শিশ্বা।

অহস্তদবলুম্পতু, যৎ কিঞ্চ দুরিতং ময়ি।

ইদমহং মামমৃতযোনৌ সত্যে জ্যোতিষি জুহোমি স্বাহা॥ ১৯॥


পুনর্মার্জন-

ওঁ বলে একবারভূঃ ভুবঃ স্বঃ বলে একবারতৎ সবিতুর্বরেণ্যং ভর্গো দেবস্য ধীমহি ধিয়ো য়ো নঃ প্রচোদয়াৎ বলে আর একবার।

এই তিনবার, নিজ মস্তকেজলের ছিটা নিম্নোক্ত তিনটি মন্ত্র পাঠ করে একবার মস্তকে জলের ছিটা দেবে:

অপোহিষ্ঠেতি ঋক্রয়স্য সিন্ধুদ্বীপ ঋষির্গায়ত্রীচ্ছদ আপো দেবতা মার্জনে বিনিয়োগঃ।

ওঁ আপো হিষ্ঠা ময়ো ভুব,-স্তা উর্দ্ধে দধাতন। মহে রণায় চক্ষসে॥ ১॥

ওঁ যো বঃ শিবতমো রস স্তস্য ভাজয়তেহ নঃ উশতীরিব মাতরঃ॥ ২॥

ওঁ তস্মা অরং গমাম বো, যস্য ক্ষয়ায় জিম্বথ। আপো জনয়থা নঃ॥ ৩॥ ২০॥

 


অঘমর্ষণ 

ডান হাতে করে এক গণ্ডুষ জল নিয়ে নাসিকার নিকট ধরে পাঠ করবে

ঋতমিত্যস্য অঘমর্ষণ ঋষি-রনুষ্টুপ্চ্ছন্দো ভাববৃত্তি দেবতা অশ্বমেধাব ভৃথে বিনিয়োগঃ।

 

ওঁ ঋতঞ্চ সত্যঞ্চভীদ্ধাৎ তপসোহধ্যজাত।

ততো রাত্র্যজায়ত, ততঃ সমুদ্রো অর্ণবঃ।

ওঁ সমুদ্রাদর্ণবাদধি, সংবৎসরো অজায়ত।

অহোরাত্রাণি বিদধদ, বিশ্বস্য মিষতো বশী।

ওঁ সূর্য্যাচন্দ্রমসৌ ধাতা, যথাপূর্বমকল্পয়ৎ।

দিবঞ্চ পৃথিবীঞ্চান্তরিক্ষমথো স্বঃ॥ ২১॥

 

এই মন্ত্রপাঠ করে নাভিদেশ থেকে নিশ্বাস টেনে সেই জল গভৃষোপরি  নিশ্বাস ত্যাগ করবে, এবং চিন্তা করবে— শরীরস্থ কৃষ্ণবর্ণ পাপ-পুরুষ দেহ থেকে বহির্গত হয়ে এসে এই জলে মিশেছে তৎসংসর্গে হস্তস্থ জল-গভূষ কৃষ্ণবর্ণ হয়ে গিয়েছে। তৎপরে সেই জল বাম পার্শ্বস্থ ভূমিতে নিক্ষেপ করবে।


সূর্য্যোপস্থান 

অনন্তর সূর্য্যোপস্থান করবে। তদার্থে

ওঁ ভূর্ভু বঃস্বঃ।

তৎ সবিতুর্বরেণ্যং, ভর্গো দেবস্য ধীমহি।

ধিয়ো য়ো নঃ প্রচোদয়াৎ ওঁ॥

 এই গায়ত্রী প্রাতঃসন্ধ্যা সায়ং-সন্ধ্যাকালে তিনবার এবং মধ্যাহ্ন সন্ধ্যায় একবার পাঠ করে— প্রাতঃ সায়ংসন্ধ্যায় তিন অঞ্জলিমধ্যাহ্ন-সন্ধ্যায় এক অঞ্জলি জল সূর্য্যাভিমুখে প্রদান করবে। তদনন্তর দুই পায়ের অগ্রভাগে বা এক পায়ের অগ্রভাগে ভর করে সূর্য্যাভিমুখে দাঁড়িয়ে— প্রাতঃকালে সায়ংকালে কৃতাঞ্জলি হয়েমধ্যাহ্নে উর্দ্ধবাহু হয়ে নিম্নলিখিত মন্ত্র পাঠ করবে।

 

উদুত্যমিত্যস্য প্রস্কণ্ব ঋষির্গায়ত্রীচ্ছন্দঃ সূৰ্য্যো দেবতা সূৰ্য্যোপস্থানে বিনিয়োগঃ।

ওঁ উদুত্যং জাতবেদসং, দেবং বহন্তি কেতবঃ।

দৃশে বিশ্বায় সূর্য্যং॥ ২২॥

চিত্রমিত্যস্য কুৎস ঋষি-স্ত্রিষ্টুপ্ ছন্দঃ সূর্য্যো দেবতা সূর্য্যোপস্থানে বিনিয়োগঃ।

ওঁ চিত্রং দেবানামুগাদনীকং, চক্ষুমিত্রস্য বরুণস্যাগ্নেঃ।
আপ্রা দ্যাবাপৃথিবী অন্তরিক্ষং, সূর্য্য আত্মা জগতস্তম্ভূযশ্চ।। ২৩॥


বংশোপস্থান-

অনন্তর নিম্নলিখিত মন্ত্রে এক এক অঞ্জলি জল দান করবে। 

·      ওঁ ব্রহ্মণে নমঃ।

·      ওঁ ব্রাহ্মণেভ্যো নমঃ।

·      ওঁ আচার্য্যেভ্যো নমঃ।

·      ওঁ ঋষিভ্যো নমঃ।

·      ওঁ দেবেভ্যো নমঃ।

·      ওঁ বেদেভ্যোঃ নমঃ।

·      ওঁ বায়বে নমঃ।

·      ওঁ মৃত্যবে নমঃ।

·      ওঁ বিষ্ণবে নমঃ।

·      ওঁ বৈশ্রবণায় নমঃ।

·      ওঁ উপজায় নমঃ।

(মধ্যাহ্ন স্নানের পর তর্পণ করলে এই সময়ে করতে হয়।)


তর্পণ


গায়ত্রীর আবাহন-

প্রথমে হাত যোড় করে নিম্নোক্ত মন্ত্রে গায়ত্রীর আবাহন করবে।
মন্ত্র, যথা-

ওঁ আয়াহি বরদে দেবি, এ্যক্ষরে ব্রহ্মবাদিনি।

গায়ত্রি চ্ছন্দসাং মাত ব্রহ্মযোনি নমোহস্তু তে।।২৪


অতঃপর অঙ্গন্যাস করবে। যথা-

  • ওঁ হৃদয়ায় নমঃ — তর্জনী, মধ্যমা অনামিকা অঙ্গুলির অগ্রভাগ দ্বারা নিজ হৃদয় স্পর্শ করবে।
  • ওঁ ভুঃ শিরসে স্বাহা — তর্জনী মধ্যমা অঙ্গুলীর অগ্রভাগ দ্বারা মস্তক স্পর্শ।
  • ওঁ ভুবঃ শিখায়ৈ বষট্ — বৃদ্ধ অঙ্গুলীর অগ্রভাগ দ্বারা শিখা স্পর্শ।
  • ওঁ স্বঃ কবচায় হুং — দক্ষিণ হস্তের পাঁচটি অঙ্গুলীর অগ্রভাগ দ্বারা বাম বাহুমূল, এবং বাম হস্তের পাঁচ অঙ্গুলীর অগ্রভাগ দ্বারা দক্ষিণ বাহুমূল স্পর্শ করবে।
  • ওঁ ভূর্ভুবঃ স্বঃ নেত্রত্রয়ায় বৌষট্ — তর্জনী, মধ্যমা অনামিকা অঙ্গুলি দ্বারা চক্ষু স্পর্শ করবে।
  • ওঁ তৎসবিতুর্বরেণ্যং ভর্গো দেবস্য ধীমহি ধিয়ো য়ো নঃ প্রচোদয়াৎ ওঁ করতল পৃষ্ঠাভ্যাং অস্ত্রায় ফট — দক্ষিণ হস্তের তর্জনী মধ্যমা অঙ্গুলী যোগ করে বামহস্তের পিঠ তল স্পর্শ করবে।

এইরূপ।
অঙ্গন্যাস আর দুবার অর্থাৎ মোট তিনবার করিতে হবে।

অতঃপর গায়ত্রী শাপোদ্ধার পাঠ করতে হবে।


গায়ত্রী শাপোদ্ধার 


গায়ত্রীর ধ্যান -


পরবর্তীতে নিম্নোক্ত মন্ত্র পাঠ করে তিন বেলায় তিন প্রকার গায়ত্রীর ধ্যান করবে। মন্ত্র-

গায়া বিশ্বামিত্র ঋষির্গায়ত্রী চ্ছন্দঃ

সবিতা দেবতা জপোপনয়নে বিনিয়োগঃ।। ২৫


গায়ত্রীর প্রাতঃকালের ধ্যান-

ওঁ কুমারীম্ ঋগ্বেদযুতাং ব্রহ্মরূপাং বিচিন্তয়েৎ।

হংসস্থিতাং কুশহস্তাং সূর্যমণ্ডল সংস্থিতাম্।।২৬

(প্রাতঃসন্ধ্যা কালে এই ধ্যান পড়তে হয়।)


মধ্যাহ্ন কালের ধ্যান-

মধ্যাহ্নে বিষ্ণুরূপাঞ্চ তাক্ষস্থাং পীতবাসসম্।

যুবতীঞ্চ যজুর্বেদাং সূর্য্যমণ্ডল সংস্থিতাং।। ২৭

(মধ্যাহ্ন-সন্ধ্যায় এই ধ্যান পড়বে।)


সায়াহ্ন কালের ধ্যান-

ওঁ সায়াহ্নে শিবরূপাঞ্চ বৃদ্ধাং বৃষভবাহিনীং।

সূর্য্যামণ্ডল-মধ্যস্থাং সামবেদ-সমাযুতাং।। ২৮

(সায়ং সন্ধ্যাকালে এই ধ্যান পড়বে।)


অতঃপর গায়ত্রী জপ করবে। গায়ত্রী যথা-

ওঁ ভূর্ভুবঃ স্বঃ।

তৎ সবিতুর্বরেণ্যং, ভর্গো দেবস্য ধীমহি।

থিয়ো য়ো নঃ প্রচোদয়াৎ ওঁ।।

অশক্ত পক্ষে অন্ততঃ দশবার জপ করতে হবে।জপান্তে গায়ত্রী বিসর্জন করবে।

জলাঞ্জলি পাঠ

 এক অঞ্জলি জল নিয়ে পাঠ করবে-

ওঁ মহেশবদনোৎপন্না বিষ্ণোহৃদয়-সম্ভবা।

ব্রহ্মণা সমনুজ্ঞাতা গচ্ছ দেবি যথেচ্ছয়া।। ২৯

 

গৃহীত জলাঞ্জলি পরিত্যাগ করে পুনরায় আর এক অঞ্জলি জল নিয়ে পাঠ করবে-

 ওঁ অনেন জপেন ভগবন্তা-বাদিত্যশুক্রৌ প্রীয়েতাম।

ওঁ আদিত্যশুক্রাভ্যাং নমঃ।। ৩০

 এই বলে জলাঞ্জলি দেবে।

সময়ে সম্ভব হলে গায়ত্রীহৃদয়  গায়ত্রী কবচ পাঠ করবে।


গায়ত্রীহৃদয়  গায়ত্রী কবচ 


আত্মরক্ষা-

দক্ষিণ কর্ণমূলের পৃষ্ঠদেশ দক্ষিণ হস্তের অঙ্গুষ্ঠের পৃষ্ঠদেশের মধ্য ভাগ দ্বারা স্পর্শ করে আত্মরক্ষার মন্ত্র পাঠ করবে। 
মন্ত্র, যথা-

জাতবেদস ইত্যস্য কাশ্যপ ঋষি-স্ত্রিষ্টুপ্ ছন্দোইগ্নিদেবতা, আত্মরক্ষায়াং জপে বিনিয়োগঃ।

ওঁ জাতবেদসে সুনবাম সোম,-মরাতীয়তো নি দহাতি

বেদঃ পর্যদতি দুর্গাণি বিশ্বা, নাবেব সিন্ধুং দুরিতাত্যগ্নিঃ।। ৩১

 

অনন্তর রুদ্রোপস্থান করবে-


রুদ্রোপস্থান-

কৃতাঞ্জলি হয়ে রুদ্রোপস্থানের নিম্নোক্ত মন্ত্র পাঠ করবে।
মন্ত্র, যথা-

তমিত্যস্য কালাগ্নিরুদ্র ঋষি-রনুষ্টুপ্ ছন্দোরুদ্রো দেবতা রুদ্রোপস্থানে বিনিয়োগঃ।

ওঁ ঋতং সত্যং পরং ব্রহ্ম, পুরুষং কৃষ্ণপিঙ্গলম্।

ঊর্দ্ধলিঙ্গং বিরূপাক্ষং বিশ্বরূপং নমো নমঃ।। ৩২

নিম্নোক্ত মন্ত্র পাঠ করে প্রত্যেক মন্ত্রে এক এক অঞ্জলি জল দেবে।
যথা-

·      ওঁ ব্রহ্মণে নমঃ।

·      ওঁ অভ্যো নমঃ।

·      ওঁ বরুণায় নমঃ।

·      ওঁ বিষ্ণবে নমঃ।

·      ওঁ রুদ্রায় নমঃ।

·      ওঁ বরুণায় নমঃ।

(এই স্থলে ব্রহ্মযজ্ঞ মধ্যাহ্ন সন্ধ্যায় করতে হয়, যা সন্ধ্যার শেষে লিখিত হয়েছে।)

অতঃপর সূর্য্যার্ঘ্য দেবে।


ব্রহ্মযজ্ঞ


সূর্যার্ঘ্য-

(কেবল জল দিয়েও অর্ঘ্য দেওয়া যায়।)

ওঁ নমো বিবস্বতে ব্রহ্মন, ভাস্বতে বিষ্ণুতেজসে।

জগৎ সবিত্রে শুচয়ে, সবিত্রে কর্মদায়িনে।।

ইদমর্য্যং ওঁ নমো ভগবতে সূর্যভট্টারকায় নমঃ।। ৩৩

 

অনন্তর সূর্য্যদেবকে প্রণাম করবে। 


সূর্য্যের প্রণাম মন্ত্র, যথা-

ওঁ জবাকুসুম্ সঙ্কাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিম্

ধ্বান্তারিং সর্বপাপঘ্নং প্রণতোহস্মি দিবাকরম্।। ৩৪


অতঃপর নিম্নোক্ত মন্ত্র পাঠ করে দক্ষিণ হস্ত দ্বারা এক জল গায়ত্রীকে দিয়ে ত্রুটি মার্জনার প্রার্থনা করবে।
মন্ত্র, যথা-

ওঁ যদক্ষরং পরিভ্রষ্টং মাত্রাহীনঞ্চ যদ্ভবেৎ।

পূর্ণং ভবতু তৎ সর্বং তৎপ্রসাদাৎ সুরেশ্বরি।। ৩৫

 

অনন্তর আচমন করবে।

ইতি সামবেদীয় সন্ধ্যাপ্রয়োগ সম্পূর্ণ।

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন