।।श्री।।
তান্ত্রিক সন্ধ্যা
দীক্ষিত মাত্রেরই তান্ত্রিক সন্ধ্যা করা আবশ্যক। দীক্ষিত ব্যক্তি যদি সন্ধ্যা উপাসনা না করে, তাহা হইলে তাহার দীক্ষাজনিত কোনরূপ ফললাভই হয় না। দীক্ষা তন্ত্রের অধীন। তন্ত্রের দুইটা ভাগ; যথা- (১) শক্তি-বিষয়ক, (২) বিষ্ণু-বিষয়ক। যাঁহারা শক্তিমন্ত্রে অর্থাৎ কালী দুর্গা প্রভৃতি মন্ত্রে দীক্ষিত হইয়া থাকেন এবং কালী দুর্গা প্রভৃতি দেবতার উপাসনা করেন, তাঁহারা শক্তি-বিষয়ে সন্নি-বেশিত তন্ত্রের প্রক্রিয়ানুসারে এবং যাঁহারা বিষ্ণুর উপাসক অর্থাৎ বিষ্ণু মন্ত্রে দীক্ষিত তাঁহারা, বৈষ্ণব তন্ত্রানুসারে উপাসনা করিবেন।

এই কলিযুগে বৈদিক কৰ্ম্ম সম্পাদন করা সকলের পক্ষে সম্ভবপর হয় না, বিশেষতঃ স্ত্রী শূদ্রাদির বেদে অধিকার নাই, তজ্জন্যই তান্ত্রিক কৰ্ম্ম সর্বত্র সবিশেষ আদরণীয় হইয়াছে। তন্ত্র সকলযুগেই ছিল, কলিযুগে বেদাদি বিহিত কার্য্য অতিশয় কষ্টসাধ্য, তজ্জন্যই সহজসাধ্য মুক্তি বা সিদ্ধি তন্ত্রে সন্নিবেশিত থাকায়, সমাজে তন্ত্রই অতিশর প্রসার লাভ করিয়াছে। তান্ত্রিক সন্ধ্যার সময় ও বৈদিক সন্ধ্যার সময় এক। যদি নিয়মিত সময়ে তান্ত্রিক সন্ধ্যা সম্পাদন করা না ঘটিয়া উঠে, তাহা হইলে সন্ধ্যা করিবার পূর্ব্বে দশ বার গায়ত্রী জপরূপ প্রায়শ্চিত্ত করিবার পরে সন্ধ্যা করিবে।
তান্ত্রিক সন্ধ্যা প্রাতঃকাল, মধ্যাহ্ন ও সায়ৎকাল এই তিন সময়ে একই রূপ। তবে এই তিন সন্ধ্যার প্রত্যেকের বিভিন্নপ্রকার ধ্যান আছে, তাহাই সামরিক সন্ধ্যোপাসনার সময় করিবে। গায়ত্রী ও মন্ত্রোপসনার সময় কারবে। গায়ত্রী ও মন্ত্রের জপ ১০৮ বার করিতে হয়, তাহা না করিলে জপজন্য কোন ফল হয় না। উচ্চৈঃস্বরে জপ করা উচিত নহে। গায়ত্রী ও মন্ত্র জপের ফললাভ করিতে হইলে মনে মনে জপ করা উচিত, কোনরূপ শব্দ করা উচিত নহে। দেবতা ভেদে তান্ত্রিক আচমনেরও পার্থক্য আছে। সে সকল অসম্ভব হইলে শাক্তগণ পূর্ব্বলিখিত আচমন প্রকরণের শাক্ত আচমন ও বৈষ্ণবগণ বৈষ্ণব আচমন করিবেন, এইরূপ করিলেও আচমন সিদ্ধ হয়।
হাত পা ধৌত করিয়া পূর্ব্ব বা উত্তর মুখে উপবেশন পূর্ব্বক গায়ত্রী পড়িবার পর শিখা বাঁধিয়া (যদি শিখা না থাকে, তাহা হইলে শিখাস্থান স্পর্শ করিয়া) আচমন করিবে।
* (শক্তিমন্ত্রে)-(নমঃ) আত্মতত্ত্বায় নমঃ এই যন্ত্র বলিয়া ওষ্ঠে একটু জল ছিটাইবে।
(নমঃ) বিদ্যাতত্ত্বায় নমঃ বলিয়া ওষ্ঠে একটু জল ছিটাইবে।
(নমঃ) শবতত্ত্বায় নমঃ বলিয়া ওষ্ঠে একটু জল ছিটাইবে।
অন্যমন্ত্রে-মন্ত্র না বলিরা ওষ্ঠে তিনবার একটু করিয়া জল ছিটাইবে। দ্বিজাতিগণ প্রথমের (নমঃ) স্থলে ওঁ বলিবেন ও শেষের নমঃ স্থলে স্বাহা বলিবেন এবং প্রত্যেক মন্ত্রে জল পান করিবেন।
জলশুদ্ধি
• অঙ্কুশমুদ্রা দ্বারা (মধ্যমা অঙ্গুলির অগ্রভাগ, নখ না ঠেকে) জল স্পর্শ করিয়া নিম্নলিখিত মন্ত্র বলিবে:-
(নমঃ) গঙ্গে চ যমুনে চৈব, গোদাবরি সরস্বতি।
নর্মদে সিন্ধুকাবেরি, জলেহস্মিন্ সন্নিধিং কুরু ॥
অনন্তর বীজমন্ত্র অর্থাৎ স্বীয় ইষ্ট দেবতার মন্ত্র বলিতে বলিতে সেই জল তিনবার মাটিতে ছিটাইবে ও সাতবার নিজের মস্তকে ছিটাইবে।
অঙ্গন্যাস
অনন্তর তত্ত্বমুদ্রা দ্বারা হৃদয় স্পর্শ করিয়া 'আং হৃদয়ায় নমঃ' এই মন্ত্র বলিবে। মস্তক স্পর্শ করিয়া 'ঈৎ শিরসে নমঃ' (স্বাহা) এই মন্ত্র বলিবে। শিখা স্পর্শ করিয়া 'উং শিখায়ৈ নমঃ' (বষট্) এই মন্ত্র বলিবে। দুই হাতে অর্থাৎ বাঁ হাত নীচে ও ডান হাত উপরে রাখিয়া ও আপনাকে জড়াইয়া ধরিয়া 'ঐং কবচায় নমঃ' (হুং) এই মন্ত্র বলিবে। বাঁ হাত চিৎ করিয়া ও তাহার উপর ডান হাতটিও চিৎ করিয়া রাখিয়া ডান হাতের তর্জনী দ্বারা দক্ষিণ চক্ষু, মধ্যমা দ্বারা কপাল ও অনামিকা দ্বারা বামচক্ষু স্পর্শ করিয়া 'ঔৎ নেত্রত্রয়ায় নমঃ (বৌষট্)' এই মন্ত্র বলিবে। 'অঃ অস্ত্রায় ফট্' এই মন্ত্র বলিয়া দুইটা হস্তই ঘুরাইয়া দক্ষিণ হস্তের মধ্যমা ও তর্জনী দ্বারা বাম হস্তের তলদেশে আঘাত করিবে। দ্বিজাতি-গণ নমঃ স্থলে (স্বাহা) ইত্যাদি বলিবেন।
অঘমর্ষণ
অঘ অর্থাৎ পাপ, মর্ষণ অর্থাৎ মোচন, অঘমর্ষণ অর্থাৎ পাপ ধুইয়া ফেলা। অনন্তর বীজমন্ত্রে ইষ্টদেবতার অঙ্গন্যাস ও করন্যাস করিয়া নিজের বাম হস্তে একটু জল রাখিয়া, তাহার উপর দক্ষিণ হস্ত চাপা দিয়া 'হং যং বং লং রং' এই মন্ত্র তিনবার জপ করিবে। বাম হস্তের অঙ্গুলির ফাঁক দিয়া ফোঁটা ফোঁটা জল ফেলিতে থাকিবে এবং তত্ত্বমুদ্রাদ্বারা সেইজল দক্ষিণ হস্তে গ্রহণ করিয়া বীজমন্ত্র পাঠপূর্ব্বক সাতবার মস্তকে ছিটাইবে। বামহস্তস্থিত অবশিষ্ট জল দক্ষিণ হস্তে লইয়া নাসিকার নিকট ধরিয়া মনে মনে চিন্তা করিবে যে, ঐ জল বাম নাসিকা দ্বারা দেহের মধ্যে প্রবেশ করিয়া আমার দেহস্থ সমস্ত পাপ ধুইয়া কৃষ্ণবর্ণ হইয়া
দক্ষিণ নাসিকা দিয়া বাহির হইয়া শ্বাসের সহিত ঐ জলে মিশিল। অনন্তর নিজের সম্মুখে একখানা প্রস্তর আছে এই মনে করিয়া ঐ জল করিত প্রস্তর খণ্ডের উপর 'ফট্' বলিয়া (একবার বা তিনবার) নিক্ষেপ করিবে। অনন্তর পুনরায় হস্তপ্রক্ষালনাদি করিয়া পূর্ব্ববৎ আচমন করিবে।
তর্পণ
তর্পণ স্নানেরই এক অঙ্গ; কিন্তু মহানির্ব্বাণ তন্ত্রের মতে অনেকে ইহা সন্ধ্যাতেও করিয়া থাকেন। যাঁহারা ইহা করিতে ইচ্ছা করেন, তাঁহারা কেবল মধ্যাহ্ন সন্ধ্যায় ইহা করিবেন। তর্পণ প্রাতঃসন্ধ্যায় করিবার আবশ্যক নাই ও স্ত্রীলোকদিগকেও ইহা করিতে হয় না। তর্পণ করিবার সময় নিম্নলিখিত এক একটা মন্ত্র বলিয়া বামহস্তে তত্ত্বমুদ্রার উপর প্রত্যেকবার জল দিবেঃ-
(নমঃ) দেবান্ তর্পয়ামি। (নমঃ) ঋষীন্ তর্পয়ামি। (নমঃ) পিতৃন্ তর্পয়ামি। (নমঃ) গুরুন্ তর্পয়ামি। (নমঃ) পরম গুরুন্ তর্পয়ামি। (নমঃ) পরাপর গুরুন্ তর্পয়ামি (নমঃ) পরমেষ্টি গুরূন তর্পয়ামি।
অনন্তর শক্তিমন্ত্রে-
(নমঃ) হ্রীং অমুকদেবতাৎ তর্পয়ামি নমঃ (স্বাহা) এই মন্ত্র বলিয়া তিনবার জল দিবে। অন্য মন্ত্রে- (নমঃ) অমুকদেবতাৎ তর্পয়ামি (৩বার)।
বৈষ্ণবের পক্ষে-
নমঃ নারদৎ তর্পয়ামি (৩বার)। নমঃ পর্ব্বতং তর্পয়ামি (বার)। নমঃ জিষ্ণুৎ তর্পয়ামি (৩বার)। নমঃ নিশঠৎ তর্পয়ামি (৩বার)। নমঃ উদ্ধবং তর্পয়ামি (৩বার)। নমঃ দারুকং তর্পরামি (৩বার)। নমঃ বিক্সেনং তর্পয়ামি (৩বার)। নমঃ শৈনেয়ৎ তর্পয়ামি (৩বার)। নমঃ গুরুং তর্পয়ামি (৩বার)। নমঃ (মূলমন্ত্র) অমুকদেবতাৎ তর্পয়ামি নমঃ (৩বার)।
সম্পূর্ণ তর্পণে অক্ষম হইলে নিজ নিজ ইষ্টদেবতার তর্পণ করিলেও চলিতে পারে।
সূর্য্যার্ঘ
ইদমর্য্যং (নমঃ) শ্রীসূৰ্য্যায় নমঃ এই মন্ত্র বলিয়া সূর্য্যোদ্দেশে অর্থ বা সামান্স একটু জল দিবে। (দ্বিজাতিগণ 'হ্রীং হংসঃ ইদমর্য্যৎ ওঁ সূর্য্যায় স্বাহা' বলিবেন)।
অনন্তর তিনবার গায়ত্রী জপ করিয়া নিজ নিজ ইষ্টদেবতার উদ্দেশে তিনবার জল দিবে।
• দ্বিজাতিরা সকল স্থানেই প্রথমে নমঃ না বলিয়া ওঁ বলিবেন।
গায়ত্রী ধ্যান
প্রাতঃসন্ধ্যায়।
ওঁ উদ্যদাদিত্যসঙ্কাশাং পুস্তকাক্ষকরাং স্মরেৎ।
কৃষ্ণাজিনধরাং ব্রাহ্মীৎ ধ্যায়েত্তারকিতেহম্বরে ।।১
মধ্যাহ্নসন্ধ্যায় ধ্যান।
ওঁ শ্যামবর্ণাং চতুর্ব্বাহুং শঙ্খচক্রলসংকরাম্।
গদাপদ্মধরাং দেবীং সূর্য্যাসনক্বতাশ্রয়াম্ ॥২
সায়ৎসন্ধ্যায় ধ্যান
ওঁ সায়াহ্নে বরদাং দেবীং গায়াত্রীং সংস্মরেদ যতিঃ।
শুক্লাং শুক্লাম্বরধরাং বৃষাসনক্বতাশ্রয়াম্।
ত্রিনেত্রাং বরদাং পাশং, শূলঞ্চ নূকরোটিকাম্।
বিভ্রতীৎ করপদ্মৈশ্চ বৃদ্ধাৎ গলিতযৌবনাং।
সূর্য্যমণ্ডলমধ্যস্থাৎ ধ্যায়ন দেবীং সমভ্যসেং ।।৩
ত্রিপুরা বিদ্যার ধ্যানে কিছু পার্থক্য আছে। তাহা দীক্ষা গুরুর নিকটে জানিয়া লইবে।
প্রাণায়াম
প্রথমে দক্ষিণ অঙ্গুষ্ঠ দিয়া দক্ষিণ নাসিকা টিপিয়া বামহস্তে বীজমন্ত্র ৪বার জপ করিবে। দক্ষিণ নাসিকা সেই প্রকার টিপিয়া রাখিয়াই অনামিকা ও কনিষ্ঠা দ্বারা বাম নাসিকাও টিপিয়া ধরিয়া ১৬বার বীজমন্ত্র জপ করিবে। অনন্তর দক্ষিণ নাসিকা ছাড়িয়া দিয়া ৮বার বীজমন্ত্র জপ করিবে।
ঋষ্যাদিন্যাস
তত্ত্বমুদ্রা দ্বারা নিজ মস্তক স্পর্শ করিয়া (নমঃ) অমুকঋষয়ে নমঃ বলিবে। মুখ স্পর্শ করিয়া (নমঃ) অমুকচ্ছন্দসে নমঃ বলিবে। হৃদয় স্পর্শ করিয়া (নমঃ) অমুকদেবতায়ৈ নমঃ বলিবে। যেখানে অমুক দেওয়া আছে সেই স্থানে অমুকের পরিবর্তে মন্ত্রের যে ঋষি, যে ছন্দঃ ও যে দেবতা, তাহার নাম উচ্চারণ করিবে।
দ্বিজাতিগণ প্রথমের (নমঃ) স্থলে ওঁ বলিবেন।
ঋষ্যাদি
গণেশের- গণকঋয়ে, নিচ্দ্ গায়ত্রীচ্ছন্দসে, গণেশদেবতারৈ।
শিবের- বামদেবঋষয়ে, পঙক্তিচ্ছন্দসে, ঈশানদেবতায়ৈ।
দুর্গার- নারদঋষয়ে, গায়ত্রীচ্ছন্দসে, দুর্গাদেবতায়ৈ।
জগদ্ধাত্রীর- দুর্গার ন্যায়।
কালীর- ভৈরবঋষয়ে, উষ্ণিন্দসে, দক্ষিণাকালিকা-দেবতায়ৈ।
বিষ্ণুর- সাধ্যনারায়ণ-ঋষয়ে, দৈবীগায়ত্রীচ্ছন্দসে, বিষ্ণুদেবতায়ৈ।
কৃষ্ণের- নারদঋষয়ে, বিরাড়, গায়ত্রীচ্ছন্দসে, শ্রীকৃষ্ণদেবতায়ৈ।
রামের- ব্রহ্মঋষয়ে, গায়ত্রীচ্ছন্দসে শ্রীরামদেবতায়ৈ।
সূর্য্যের- দেবভাগঋয়ে, গায়ত্রীচ্ছন্দসে, আদিত্যদেবতায়ৈ।
অন্নপূর্ণার- ব্রহ্মঋষয়ে, পঙ্ক্তিচ্ছন্দসে, অন্নপূর্ণাদেবতারৈ।
জ্ঞাতব্য।-মুনি-ঋষিরা বহুকাল গবেষণা করিয়া যেমন দ্রব্যের গুণ স্থির করিয়াছেন, সেইরূপ তাঁহারা শব্দসমূহের পর্যালোচনা করিয়া দেবতাদিগের বীজ মন্ত্রের শুভফল নির্ণয় করিয়া গিয়াছেন। এই বীজ মন্ত্র ঐকান্তিকভাবে জপ করিলে শুভফল অনিবার্য্য, নিম্নে বরদাতন্ত্রে ষষ্ঠপটলে যাহা নির্দেশ আছে, তাহার যথাযথ অর্থ দেওয়া হইল।
করন্যাস
আং অনুষ্ঠাভ্যাং নমঃ এই মন্ত্র বলিয়া দুই হাতেবই তর্জনী দিয়া অঙ্গুষ্ঠ স্পর্শ করিবে। ঈং তর্জনীভ্যাং নমঃ এই মন্ত্র বলিয়া অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা তর্জনী স্পর্শ করিবে। উং মধ্যমাভ্যাং নমঃ । এই মন্ত্র বলিয়া অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা মধ্যমা স্পর্শ করিবে। এং অনামিকাভ্যাং নমঃ। এই মন্ত্র বলিয়া অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা অনামিকা স্পর্শ করিবে। ঔং কনিষ্ঠাভ্যাং নমঃ § 'এই মন্ত্র বলিয়া অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা কনিষ্ঠা স্পর্শ করিবে। অঃ অস্ত্রায় ফট্ এই মন্ত্র বলিয়া দুই হাত ঘুরাইয়া দক্ষিণ হস্তের তর্জনী ও মধ্যমা দিয়া বাম হস্তের করতলে আঘাত করিবে।
অঙ্গন্যাস
ওঁ হৃদয়ায় নমঃ, (বলিয়া দক্ষিণ হস্তের তর্জনী, মধ্যমা ও অনামিকা দ্বারা হৃদয় স্পর্শ করিবে)। ভূ শিরসে স্বাহা, (বলিয়া তর্জনী ও মধ্যমা দ্বারা মস্তক স্পর্শ করিবে)। ভূ শিখায়ৈ বষট্, (বলিয়া অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা শিখা স্পর্শ করিবে)। বঃ কবচায় হুঁ, (বলিয়া বাম হস্তের উপর দক্ষিণ হস্ত রাখিয়া দুই হস্তে আপনাকে জাপুটাইয়া ধরিবে)। স্বঃ অস্ত্রায় ফট্, (বলিয়া দক্ষিণ হস্ত মস্তকের চতুদ্দিকে ঘুরাইয়া দক্ষিণ তর্জনী ও মধ্যমা দ্বারা বাম করতলে আঘাত করিবে)। অঙ্গন্যাস তিনবার করা আবশ্যক। অতঃপর গায়ত্রীর ধ্যান করিবে। বাম হস্তের তল-দেশে একটি ত্রিকোণ মণ্ডল আঁকিয়া কুৰ্ম্মমুদ্রা দ্বারা নিম্নলিখিত মন্ত্র বলিতে বলিতে
ধ্যান করিবে।
ইষ্টমন্ত্র জপ
মনে মনে ইষ্ট-দেবদেবীর মূর্তি ভাবিয়া গুরু, দেবতা ও মন্ত্র এই তিনটাকেই একরূপ মনে করিয়া ১৮বার, ১০৮ বার অথবা ১০০৮ বার (সাধ্যানুসারে) যথানিয়মে ইষ্টমন্ত্র জপ করিবে।
তান্ত্রিক গায়ত্রী
[ তন্ত্রসারে কথিত আছে শূদ্র ও স্ত্রী গায়ত্রী জপের পূর্ব্বে ঔ বলিয়া জপ করিবে। যথা-চতুর্দ্দশঃ স্বরো নাদ-বিন্দুভূষিতমস্তকঃ। শূদ্রস্থ্য প্রণবো দেবি কথিতস্তন্ত্রবেদিভিঃ] ॥
দক্ষিণাকালিকার-কালিকায়ৈ বিদ্মহে শ্মশানবাসিন্যৈ ধীমহি। তন্নো ঘোরে প্রচোদয়াৎ ॥
(শ্মশব্দেন শবঃ প্রোক্তঃ শানং শয়নমুচ্যতে।
নির্বচন্তি শ্মশানার্থং মুনে শব্দার্থকোবিদাঃ ॥
মহাস্থ্যপি চ ভূতানি প্রলয়ে সমুপস্থিতে।
শেরতেহত্র শবা ভূত্বা শ্মশানন্ত ততো ভবেৎ । স্কন্দপুরাণ)।
দুর্গার- নারায়ণ্যৈ বিদ্মহে, দুর্গায়ৈ ধীমহি। তন্নো গৌরী প্রচোদয়াৎ ॥
জগদ্ধাত্রীর- মহাদেব্যৈ বিদ্মহে, দুর্গায়ৈ ধীমহি। তন্নো দেবী প্রচোদয়াৎ ॥
সরস্বতীর- বাগদেব্যৈ বিদ্মহে, কামরাজায় ধীমহি। তন্নো দেবী প্রচোদয়াৎ ॥
তারার- তারায়ৈ বিদ্মহে, মহোগ্রায়ৈ ধীমহি। তন্নো দেবী প্রচোদয়াৎ ॥
অন্নপূর্ণার- ভগবত্যৈ বিদ্মহে, মাহেশ্বর্য্যে ধীমহি। তন্নোহন্নপূর্ণে প্রচোদয়াৎ ॥
গণেশের- তৎপুরুষায় বিদ্মহে, বক্রতুণ্ডায় ধীমহি। তন্নো দন্তী প্রচোদয়াৎ ॥
শিবের- তৎপুরুষায় বিদ্মহে, মহাদেবায় ধীমহি। তন্নো রুদ্রঃ প্রচোদয়াৎ।।
কৃষ্ণের ও বিষ্ণুর- ত্রৈলোক্যমোহনায় বিদ্মহে, কামদেবার ধীমহি। তন্নো বিষ্ণুঃ প্রচোদয়াৎ ॥
গোপালের- কৃষ্ণায় বিদ্মহে, দামোদরায় ধীমহি। তন্নো বিষ্ণুঃ প্রচোদয়াৎ।
রামের- দাশরথায় বিদ্মহে, সীতাবল্লভার ধীমহি। তন্নো রামঃ প্রচোদয়াৎ।।
সূর্য্যের- আদিত্যায় বিদ্মহে, মার্তণ্ডায় ধীমহি। তন্নঃ সূর্য্যঃ প্রচোদয়াৎ ।
জপ সমর্পণ
গণ্ডুষে বা কুশীতে জল লইয়া নিম্নলিখিত মন্ত্র বলিবে:-
(নমঃ) গুহ্যাতিগুহ্যগোত্রী ত্বং গৃহাণাস্মৎ কৃতং জপম্।
সিদ্ধির্ভবতু মে দেবি, ত্বৎপ্রসাদাৎ সুরেশ্বরি ॥৪ +
* দ্বিজাতিরা নমঃ স্থলে স্বাহা, নমঃ স্থলে বষট্ নমঃ স্থলে হুং, § নমঃ স্থলে বৌষট্ বলিবেন।
† পুরুষ দেবতা হইলে 'গোপ্ত্রী' স্থলে 'গোপ্তা', 'দেবি' স্থলে 'দেব' এবং সুরেশ্বরি' স্থলে 'সুরেশ্বর' বলিবে।
উপরোক্ত মন্ত্র বলিয়া ঐ জল দেবতার বাম হস্ত উদ্দেশে (পুরুষ দেবতা হইলে দক্ষিণ হস্ত উদ্দেশে এবং অনেক হস্ত হইলে নিম্নহস্ত উদ্দেশে) ভূমিতে নিক্ষেপ করিবে, অনন্তর পুনরায় পূর্বের ন্যায় প্রাণায়াম করিয়া ইষ্টদেবদেবীকে ও গুরুকে প্রণাম করিবে।
যদি কেহ সম্পূর্ণ সন্ধ্যা করিতে অক্ষম হয়, তাহা হইলে ইষ্টদেবদেবীকে মনে মনে ধ্যান করিয়া ইষ্টমন্ত্র অন্ততঃ পক্ষে দশবার জপ করিবে।
দ্রষ্টব্য।-শূদ্র ও স্ত্রী অঙ্গন্যাস করিবার সময় "স্বাহা” বলিবে না, "নমঃ” বলিবে, "ওঁ” উচ্চারণ করিবে না। তর্পণ করিবার সময় নমঃ বলিবে। তান্ত্রিক সন্ধ্যা ব্রাহ্মণ, দ্বিজ, স্ত্রী, শূদ্র প্রভৃতি সকলেরই একরূপ, কেবল ওঁ ইত্যাদির উচ্চারণে কিছু প্রভেদ আছে; তাহাও 'লিখিত হইল।
জপের নিয়ম
জপ তিন প্রকার-বাচিক, উপাংক ও মানস। বাচিক অপেক্ষা উপাংশু এবং উপাংশু অপেক্ষা মানস জপ শ্রেষ্ঠ। অপরে শুনিতে পায় এরূপ জপকে বাচিক; কেবল নিজে শুনিতে পাওয়া যায় এরূপ জপকে উপাংশু এবং জিহ্বা ও ওঠ চালনা না করিয়া মনে মনে জপকে মানস জপ বলে। বাচিক জপও উচ্চৈঃস্বরে করা নিষিদ্ধ। সংখ্যা না রাখিয়া জপ করিলে জপের ফল হয় না। পুরুষ দেবতার মন্ত্র জপের নিয়ম ওপরে দ্রষ্টব্য। স্ত্রী দেবতার মন্ত্র জপের নিয়ম। -দক্ষিণ হস্তের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠের অগ্র পর্ব্ব দ্বারা যথাক্রমে অনামিকার মধ্য ও মূল পর্ব্ব; কনিষ্ঠার মূল, মধ্য ও অগ্র পর্ব্ব; অনামিকার অগ্র পর্ব্ব, মধ্যমার অগ্র, মধ্য ও মূল পর্ব্ব এবং তর্জনীর মূল পর্ব্ব ধরিয়া জপ করিলে ১০ বার জপ হইবে। এক একটা পর্ব্ব ধরিয়া এক একবার জপ করিবে। প্রত্যেক অঙ্গুলির পর্ব্ব অর্থাৎ পাব ধরিবে। গ্রন্থি অর্থাৎ গাঁইট ও অগ্রভাগ ধরিবে না। জপের সময় অঙ্গুলি সমুহ সংযুক্ত থাকিবে, ফাঁক করিয়া রাখিবে না। প্রাতঃ- কালে হৃদয়ের নিকট চিৎ হাতে, মধ্যাহ্নে কাইৎ (হৃদয়াভিমুখ) হাতে এবং সায়ংকালে উপুড় হাতে বৈদিক মন্ত্র জপ কর্তব্য। অন্যান্য জপ সর্ব্বদা কাইৎ হাতে করিবে। জপকালে হস্তদ্বয় বস্ত্রাভ্যন্তরে রাখিবে। দ্বিজাতিগণ অঙ্গুষ্ঠে পৈতা জড়াইয়া লইবেন। দশবারের ন্যূন জপে কোন ফল হয় না। জপকালে কথা বলিবে না। ধীরে ধীরে সুস্পষ্ট মন্ত্র উচ্চারণ করিয়া জপ করিবে। অপরে যেন শুনিতে না পায় এইরূপে জপ করা কর্তব্য।
বীজমন্ত্রের অর্থ
শ্রীশিব উবাচ। মন্ত্রার্থং কথয়াম্যদ্য শৃণুষ পরমেশ্বরি। বিনা যেন ন সিধ্যেৎ সাধনৈঃ কোটিশঃ শিবে। আদৌ প্রাসাদবীজস্য মন্ত্রার্থৎ শৃণু পাৰ্ব্বতি ॥
হৌং-হ-শিব। ঔ-সদাশিব। ং-ক্লেশনিবারণ। সদা হিতকারী শিব আমার ক্লেশনিবারণ করুন।
স্ত্রী-হ-শিব। রূ-প্রকৃতি। ঈ-মহামায়া। জগন্মাতা। ক্লেশ- নিবারণ। শিবের শক্তি মহামায়া জগন্মাতা আমার ক্লেশ নিবারণ করুন।
হ্-হ-শিব। উ-ভৈরব। পরম। ক্লেশনিবারণ। শিব যাঁহার ভৈরব, সেই পরমেশ্বরী আমার ক্লেশনিবারণ করুন।
ক্রী-ক্-কালী। র্-ব্রহ্ম। ঈ-মহামায়া। বিশ্বমাতা। ক্লেশনিবারণ। মহামায়া বিশ্বজননী কালী আমার ক্লেশ নিবারণ করুন।
*=
শ্রী-শ-মহালক্ষ্মী। র্ধন। ঈ-তুষ্টি। পরম। ক্লেশনিবারণ। পরমেশ্বরী মহালক্ষ্মী আমাকে ধন সম্পৎ ও সন্তোষ দিয়া আমার ক্লেশ নিবারণ করুন।
স্ত্রী-স্-দুর্গোত্তারিণী। ত-তারা। র-মুক্তি। ঈ-মহামায়া। - জগজ্জননী। -দুঃখহরণ। জগজ্জননী মহামায়া মুক্তিদাত্রী দুর্গতিহারিণী তারা আমার দুঃখ দূর করুন।
দু-দ্-দুর্গা। উ-রক্ষা। জগজ্জননী। - করুন। হে বিশ্বমাতঃ দুর্গে, আমাকে রক্ষা করুন।
এং-ঐ-সরস্বতী। ং-দুঃখহরণ। দেবী সরস্বতী, আমার দুঃখ দূর করুন।
গং-গ-গণেশ। ৎ-দুঃখহরণ। সর্ব্বসিদ্ধিদাতা গণেশ আমার দুঃখ দূর করুন।
ক্লীং-ক্ - কৃষ্ণ বা কামদেব। ল্ সুরপতি ইন্দ্র বা ঐশ্বর্য্যশালী। ঈ- তুষ্টি। ৎ-সুখপ্রদ ও দুঃখহরণ। সর্ব্বশক্তিমান্ কৃষ্ণ বা কামদেব আমাকে সন্তুষ্ট আর সুখী করিয়া আমার দুঃখনাশ করুন।
:-মন্ত্রে দুইটা বিন্দু থাকিলে, একটা বিন্দুর অর্থ দুঃখনাশন ও অন্যটার অর্থ সুখ ও সুখপ্রদ।
বীজমন্ত্রের সংজ্ঞা
শক্তি-হ্রীং। অস্ত্র-ফট্। পৃথ্বী-লং। বরুণ-বং। অঙ্কুশ-ক্রোং। বায়ু -যং। কবচ-হং। লজ্জা-হ্রীং। শাপহ-হ্রীং। পাশ-আং। ইন্দ্র-লং। প্রবন্ধ-শ্রীং হৌং। চন্দ্র-ঠৎ। বৰ্ম্ম-হং। কৃষ্ট হং। জয়দঐং। প্রাসাদ - হৌৎ। রক্ষা-হং। বাগ্ভব-ঐং। ভুবনেশী ও মায়া-হ্রীং। কাম = ক্লীং। শৰ্ম্মদ-ক্রীং ক্রীং।
0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন